সঞ্জুর ঝড়ে ২৫৩, বেথেলের শতরানও বৃথা—৭ রানে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ভারত

আরও এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পেন্ডুলামের কাঁটা দুলেছে এদিক-ওদিক। তবে স্যাম কারেনের আউটের সঙ্গেই কার্যত শেষ হয়ে যায় ইংল্যান্ডের আশা। তখন ৯ বলে দরকার ছিল ৩৬ রান। বেথেল ক্রিজে থাকলেও লক্ষ্যটা প্রায় অসম্ভবই মনে হচ্ছিল। এরপর বেথেলের রান আউটেই ইংল্যান্ডের হারে সিলমোহর পড়ে। শেষ ওভারে জোফ্রা আর্চারের তিনটি ছক্কা বড়জোর ক্ষতে মলম দিয়েছে। ৭ রানের হার বিশ্বকাপ থেকে ইংল্যান্ডের বিদায় আটকাতে পারেনি।

তবু ম্যাচের অন্যতম নায়ক বেথেল। মাত্র ৪৮ বলে ১০৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেললেন তিনি। যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন, স্টেডিয়ামের দর্শকরা প্রায় নিঃশ্বাস আটকে বসে ছিলেন। যা মারছেন তাই চার বা ছয়। বরুণ চক্রবর্তী ৪ ওভারে খরচ করলেন ৬৪ রান—ভাবা যায়! একমাত্র জসপ্রীত বুমরাই ছিলেন নিয়ন্ত্রিত। তাঁকে অষ্টাদশ ওভারে আনা ছিল ভারতের মাস্টারস্ট্রোক। সেই ওভারে ইংল্যান্ড তুলতে পারে মাত্র ছয় রান। পরের ওভারে হার্দিক পাণ্ড্যও চাপ ধরে রাখেন। শেষ ওভারে শিবম দুবে ২২ রান দিলেও ততক্ষণে ভারতের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত।

২৫৩ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের নিশ্চয়ই আফসোস হচ্ছিল সঞ্জু স্যামসনের সেই ক্যাচ ফেলে দেওয়ার জন্য। ইডেনে ৯৭ নট আউটের পর এখানেও সঞ্জুর ব্যাটে ঝড়—৪২ বলে ৮৯। তাঁর ইনিংসই ভারতের বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেয়।

ভিআইপি বক্সেও ছিল তারকার মেলা। সকন্যা রণবীর কাপুর, আলিয়া ভাট, অনিল কাপুর ও বরুণ ধাওয়ানকে দেখা গেল। কাঁচের বক্সে ছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি ও সাক্ষী ধোনিও। বিশ্বকাপের দূত রোহিত শর্মাও মাঠে এসে দলের সকলকে শুভেচ্ছা জানান।

ইংল্যান্ডের ইনিংসের শুরুটা ভালো হয়নি। ৬ ওভারের মধ্যেই ফিল সল্ট (৫), হ্যারি ব্রুক (৭) ও জস বাটলার (২৫) ফিরে গেলে স্কোর দাঁড়ায় ৬৮/৩। তখনই পরিষ্কার হয়ে যায় ইংল্যান্ডের পথ কঠিন। উইকেট ছিল ব্যালান্সড, আর সেই কারণেই প্রথম তিন উইকেট ভাগ করে নেন বুমরা, বরুণ ও হার্দিক।

ম্যাচের বড় টার্নিং পয়েন্ট ছিল ব্রুকের ফেলে দেওয়া সেই ক্যাচ। মিড-অন অঞ্চলে সঞ্জুর সহজ ক্যাচ হাতছাড়া করেন তিনি। সেই ভুলেরই বড় মূল্য দিতে হয় ইংল্যান্ডকে।

ভারতের ইনিংসে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন সঞ্জু। প্রথম ওভারেই জোফ্রা আর্চারকে ব্যাকফুটে দাঁড়িয়ে চার ও ছয় মারেন। পাওয়ার প্লে শেষ হয় ভারতের ৬৭/১ স্কোরে।

২০ ওভারে ভারত তোলে ২৫৩/৭। সঞ্জু (৮৯) ও ঈশান কিশানের মধ্যে ৪৭ বলে ৯৭ রানের জুটি ম্যাচের ভিত গড়ে দেয়। ঈশান ১৮ বলে ৩৯ করে রশিদের বলে আউট হলেও রান তোলার গতি কমেনি। শিবম দুবে (৪৩) দ্রুত রান তুললেও হার্দিক পাণ্ড্যার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হন। সূর্যকুমার যাদব ১১ রান করে ফেরেন। তবে তিলক বর্মার ৭ বলে ২১ রানের ঝোড়ো ক্যামিও শেষ পর্যন্ত ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়।

শেষ পর্যন্ত ৭ রানের জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিল ভারত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *