
কলম্বো, ১৫ ফেব্রুয়ারি: দশদিন ধরে বয়কটের হুমকি—তবু মাঠে দেখা গেল না মহসিন নকভিকে। দুবাইয়ে কাপ নিয়ে আলোচনায় থাকা সেই প্রশাসক হয়তো ভাবছিলেন, বয়কট করলেই ভালো হত! কারণ মাঠে যা হল, তা পাকিস্তানের জন্য আরও এক দুঃস্বপ্ন।
ভারতের বিরুদ্ধে খেলছে, আর হারছে। আবার খেলছে, আবার হারছে। সংখ্যাটা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে হিসেব রাখা কঠিন। লঙ্কায় জেতার আশা নিয়েই নামেনি পাকিস্তান। শুধু অভিষেক আউট হওয়ার পর খানিক উচ্ছ্বাস—তারপর পুরো ম্যাচে কার্যত অদৃশ্য।
১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ভেঙে পড়ে পাক টপ অর্ডার। ১৩ রানে ৩ উইকেট পড়তেই ড্রেসিংরুমে হতাশার ছাপ স্পষ্ট। কোচ গ্যারি কির্স্টেনের জায়গায় থাকা গ্যারি হেসন-এর মুখভঙ্গিই যেন সব বলে দিচ্ছিল। সলমন আঘা, সাইম আয়ুব—এক এক করে তুলে নেন জসপ্রীত বুমরা। বিশেষ করে আয়ুবকে দেওয়া সেই ইয়র্কার ছিল প্রায় খেলার অযোগ্য।
ভারত স্পিনের জালও পেতে রেখেছিল। কুলদীপ, বরুণ, অক্ষর—আর শুরুতেই বুমরার জোড়া আঘাত। ফলে পাকিস্তানের মনোবল গুঁড়িয়ে যায় প্রথম পাওয়ারপ্লেতেই। শেষ পর্যন্ত ৬১ রানের বড় ব্যবধানে জিতে সুপার এইটে উঠে গেল ভারত—৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট, নিখুঁত অভিযান।
টসে ঠান্ডা লড়াই
টসে Suryakumar Yadav ও Salman Agha-র মধ্যে দূরত্ব ছিল চোখে পড়ার মতো। পাকিস্তানের একের পর এক শর্ত ও হুমকির মাঝেও ভারতীয় বোর্ড নীরব ছিল। সূর্যর শরীরী ভাষায় ছিল আত্মবিশ্বাস—“খেললে তো তোমরাই হারবে!”
টপ অর্ডারের ধস
পাকিস্তানের ব্যাটিং ব্যর্থতার তালিকা দীর্ঘ—ফারহান (০), আয়ুব (৬), আঘা (৪), বাবর (৫), শাদাব (১৪)। বড় ভরসা বাবরও ব্যর্থ। ১৭৫ তাড়া করার মানসিকতাই যেন ছিল না।
উসমান তারিকের লড়াই
উসমান তারিকের গল্প আলাদা। ক্রিকেট ছেড়ে চাকরিতে গিয়েও আবার ঘাসে ফেরা। পিএসএল থেকে সিপিএল—ট্রিনবাগো নাইট রাইডার্সে সাফল্য, তারপর জাতীয় দলে ডাক। এদিন ২৪ রানে ১ উইকেট। পরিসংখ্যান বড় নয়, কিন্তু বোলিং ছিল ধারালো। ওয়াইড অ্যাঙ্গেল, স্লিং অ্যাকশন—মালিঙ্গার ছোঁয়া। ডেলিভারির আগে থেমে যাওয়ার ভঙ্গি ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করেছে। তবু আইসিসি তাঁর অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি।
ঈশানের ঝড়
ভারতের ইনিংসে আসল ঝড় তুললেন ঈশান। ৪০ বলে ৭৭—সেঞ্চুরির গন্ধ ছিল। অভিষেকের দ্রুত বিদায়ের পর একাই ম্যাচের রং বদলে দেন। পরে তিলক (২৫), সূর্য (৩২), শিবম (২৭) ও রিঙ্কুর ক্যামিওতে ২০ ওভারে ১৭৫/৭।
অভিষেকের ফুড পয়জনিংয়ের ধকল চোখে পড়েছে। আধা-ফিট অবস্থায় তাঁকে নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। তবু সেই ধাক্কা সামলে ভারতের লড়াকু স্কোরই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
বৃষ্টি নিয়ে যত আলোচনা ছিল, ম্যাচের দিনে তার ছিটেফোঁটাও নেই। ছবিটা একই—ভারতের দাপট, পাকিস্তানের হতাশা। সুপার এইটে সূর্যদের পথচলা এখন আরও আত্মবিশ্বাসী।
