৫ লক্ষ পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিমা, বাংলার শিল্পী,কলাকুশলীদের পাশে আছি: একইসঙ্গে ‘মহানায়ক সম্মান‘-মঞ্চে সিরিয়াল নিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

সিনেমা ও টেলিভিশনে কর্মরত কলাকুশলীদের পাশে আছে রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার উত্তম প্রয়াণদিবসে ‘মহানায়ক সম্মান‘-মঞ্চে জানান বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, “সিনেমা ও টেলিভিশনে কর্মরত কলাকুশলীদের জন্য ৫ লক্ষ পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিমা করেছি। কলাকুশলী ও শিল্পী মিলিয়ে রয়েছেন প্রায় ৪৮০০ জন। দুঃস্থ শিল্পী ও কলাকুশলীদের মেয়ের বিয়ের জন্য এবং মৃত্যুকালীন কিছু সাহায্য করা হয়।”এরপরেই প্রসেনজিতের এক বিশেষ উদ্যোগের প্রশংসা করলেন। তিনি বলেন, “প্রসেনজিৎ একটা ভাল আইডিয়া করেছে। একটা মডেল করেছে। আমাকে অফিসাররা দেখে এসে বলেছে। ও প্রায় ১০০টি জায়গায় ৪০ ৫০ জন বসার মত একটা ঘর তৈরি করছে। আমরা সেটাতে খুশি হয়েছি। এটা যদি হয়, তাহলে বুথ লেভেলে বা গ্রাসরুট লেভেলে সিনেমা আরও অনেকটাই ছড়িয়ে পড়বে। গ্রামীণ অনেক জায়গায় এমনকী কিছু প্রত্যন্ত গ্রামে মানুষ সিনেমা দেখতে পাবেন। তাতে ওরা যে সিনেমাগুলি তৈরি করে তার একটা মার্কেটও পাবে, এমপ্লয়মেন্টও বাড়বে”।এরপরেই শিল্পীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি ২০১২ সাল থেকে স্বীকৃতি চালু করেছিলাম। বড়রা যেমন গান গাইবে তেমন যারা ইয়ং শিল্পীরা আছেন তাদেরও আমরা আনছি। বাংলা সংস্কৃতিকে আমাদের আরো কুসুমিত, পল্লবিত, বিকশিত সুললিত সুশোভিত করে তুলতে হবে। সভ্যতা ও সংস্কৃতি হল জাতির মেরুদন্ড। বাংলা মোদের জন্মভূমি, মাতৃভূমি। এই ভূমি আমাদের উর্বর করে তুলতে হবে। স্বরূপ-অরূপ ওরা তো আছেই। ওরা অনেক কিছু করেছে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির জন্য। সবসময় সিনেমা ও টেলিভিশনে কর্মরত কলাকুশলীদের পাশে তারা আছে। ভবিষ্যতেও থাকবে। আমরা তাদের জন্য ৫ লক্ষ পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিমা করেছি। কলাকুশলী ও শিল্পী মিলিয়ে রয়েছেন প্রায় ৪৮০০ জন। তারা সকলেই স্বাস্থ্য বিমার আওতায় আছেন। এদের পরিবারের সদস্যদের ধরলে প্রায় ২০ হাজার মানুষ এই স্বাস্থ্য বিমা থেকে উপকৃত হচ্ছেন। এছাড়াও ফিল্ম ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার ফান্ড থেকে আমাদের সরকার দুঃস্থ শিল্পী ও কলাকুশলীদের মেয়ের বিয়ের জন্য এবং মৃত্যুকালীন কিছু সাহায্য করেন। গৌতমদা একবার আমাকে জানিয়েছিল বিজিবিএসে আমরা যেন ফিল্ম সেক্টরকে ইনভল্ভ করি সেটা করেছি। এছাড়া কালচারাল এক্টিভিটিস যেমন গান থেকে শুরু করে সবকিছুই আমরা উন্নত করেছি। আমাদের সঙ্গীত অ্যাকাডেমিও তৈরি হয়ে গিয়েছে। সময় করে উদ্বোধন করব। এর ফলে সঙ্গীত জগৎ অনেকটাই উপকৃত হবে। এছাড়া অরূপকে বলেছি টেলি অ্যাকাডেমির প্রোগ্রামটাও করতে। ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল প্রতিবার হয়। সব সিনেমা দেখুন তবে বাংলা সিনেমাকে অবহেলা করবেন না”। একইসঙ্গে বৃহস্পতিবার, ধনধান্য স্টেডিয়ামে ‘মহানায়ক সম্মান ২০২৫’ অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে সেই সিরিয়ালের বিষয়বস্তু নিয়ে নিজের অপছন্দের কথাও জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। স্পষ্ট জানালেন, “সিরিয়াল দীর্ঘায়িত করতে ‘গুন্ডামি’ দেখানো উচিত নয়। এতে সমাজে বিরূপ প্রভাব পড়ে”। এর পাশাপাশি, বাংলা সিরিয়ালে বাংলা গান ব্যবহারের বিষয়েও জোর দেন মমতা। এদিন এই মঞ্চ থেকে বাংলা বিনো-জগতের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাংলা সিরিয়াল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “বাংলা সিরিয়াল খুলেই দেখা যাচ্ছে, এ ওকে বিষ দিয়ে দিচ্ছে। ভায়োলেন্স দেখানো হচ্ছে”। মমতার মতে, “এর নেগেটিভ প্রভাব পড়ে সমাজে। ছোটরা এই সব দেখে ভুল শিক্ষা পাচ্ছে”। এমনকী আত্মহাত্যার প্রবণতা বাড়ছে বলেও অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী। এই বিষয়ে সিরিয়াল নির্মাতাদের নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।মমতা বলেন, “সিরিয়ালের এপিসোড বাড়াতে হবে বলে রোজ গুন্ডামি দেখাতে হবে! বাড়ান ভালো বিষয় দিয়ে। কত উদ্ভাবনী বিষয় আছে। তা না দেখিয়ে এ ওকে গুলি করছে, এ ওকে ছুরি মারছে। এসব দেখলেই আমি টিভি বন্ধ করে দিই। এই সব দেখলে টেনশন বেড়ে যায়। সারাদিনের শেষে সিরিয়াল দেখে রিল্যাক্স করব না টেনশন করব। সিরিয়াল লোকে দেখে বিনোদনের জন্য। এই সব কথা মাথায় রেখে তৈরি করতে হবে। হাসি-খুশি-মজা-সামাজিক গল্প নিয়ে সিরিয়াল করতে হবে, যা মানুষের বিবেককে, আবেগকে জাগ্রত করে”।এদিন বাংলা সিরিয়ালে হিন্দি গান ব্যবহার নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “বাংলায় অনেক কালজয়ী গান আছে। স্বর্ণযুগের গান এখনও মানুষের মন ছুঁয়ে যায়। সেই সব না বাজিয়ে ঝিনচ্যাক গান বাজানো হচ্ছে সিরিয়ালে”। মমতার কথায়, “ওদের তো একটা প্ল্যাটফর্ম আছে। সেখানে তারা বাজায়”। সব ভাষার গানকেই তিনি সম্মান জানান, পছনন্দ করেন। “কিন্তু এখানে বাংলা গানকে তো বেশি করে দেওয়া হবে”-মত মমতার। “এখানে অনেক প্রতিভাধর সঙ্গীতশিল্পী আছেন। অনেক সঙ্গীতশিল্পী আছেন, যাঁরা নিজেরাই গান তৈরি করেন”। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, “বাংলা ভাষাকে বাদ দিয়ে কিছু করতে পারা যাবে না”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *