Site icon PrimeTime

৩১ মার্চ পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু, নতুন দলে গ্লেন ফিলিপস—শক্তিশালী স্কোয়াডে চোখ শিরোপায়

5

আইপিএল ২০২৬ শুরু হওয়ার আগেই অন্যতম আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে গুজরাট টাইটান্স। ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়ন দলটি এবারের মরশুমে নতুন উদ্যম, নতুন কৌশল এবং শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামতে চলেছে। ৩১ মার্চ পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে তাদের অভিযান শুরু হবে, আর সেই ম্যাচকে ঘিরেই ইতিমধ্যেই উত্তেজনা তুঙ্গে।

দলের অন্যতম বড় সংযোজন হল নিউজিল্যান্ডের বিধ্বংসী অলরাউন্ডার গ্লেন ফিলিপস। নিলামে ২ কোটি টাকায় তাকে দলে নিয়েছে গুজরাট টাইটান্স। ইতিমধ্যেই তিনি আহমেদাবাদে পৌঁছে গিয়েছেন এবং দলের সঙ্গে অনুশীলন শুরু করেছেন। ফিলিপসের উপস্থিতি মিডল অর্ডারে বাড়তি আগ্রাসন এবং ফিনিশিং ক্ষমতা যোগ করবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। তার পাশাপাশি পার্ট-টাইম স্পিনও দলের জন্য কার্যকর হতে পারে।

তবে সব নজরের কেন্দ্রে রয়েছেন অধিনায়ক শুভমন গিল। গত কয়েক বছরে তিনি নিজেকে আইপিএলের অন্যতম ধারাবাহিক ও ভয়ংকর ব্যাটার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিশেষ করে ২০২৩ সালের আইপিএলে ৮৯০ রান করে তিনি কার্যত একক আধিপত্য দেখিয়েছিলেন। সেই মরশুমে তার একাধিক শতরান এবং ম্যাচ জেতানো ইনিংস তাকে সুপারস্টারের কাতারে পৌঁছে দেয়।

যদিও সাম্প্রতিক সময়ে টি-২০ আন্তর্জাতিক দলে সুযোগ না পাওয়ায় কিছুটা বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তবে প্রাক্তন ভারতীয় ব্যাটার চেতেশ্বর পূজারা মনে করেন, এই ‘স্নাব’ বা উপেক্ষাই গিলকে আরও ক্ষুধার্ত করে তুলবে। পূজারার মতে, যদি গিল এবারের আইপিএলে ১৫০-১৬০ স্ট্রাইক রেটে ধারাবাহিকভাবে রান করতে পারেন, তাহলে খুব শিগগিরই তিনি আবার ভারতের টি-২০ দলে জায়গা পেয়ে যাবেন।

গুজরাট টাইটান্সের ব্যাটিং লাইনআপ এ বছর যথেষ্ট ভারসাম্যপূর্ণ। ওপেনিংয়ে গিলের সঙ্গে জস বাটলার থাকলে তা যে কোনও বোলিং আক্রমণের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠতে পারে। বাটলার তার আগ্রাসী ব্যাটিং এবং ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতার জন্য পরিচিত। মিডল অর্ডারে গ্লেন ফিলিপসের পাশাপাশি আরও কয়েকজন নির্ভরযোগ্য ব্যাটার রয়েছে, যারা প্রয়োজনে ইনিংস গড়তে এবং শেষে ঝড় তুলতে সক্ষম।

বোলিং বিভাগেও গুজরাট টাইটান্স যথেষ্ট শক্তিশালী। বিশ্বের অন্যতম সেরা লেগ-স্পিনার রশিদ খান দলের প্রধান অস্ত্র। তার চার ওভারের স্পেল যে কোনও ম্যাচের ফলাফল ঘুরিয়ে দিতে পারে। এছাড়া পেস আক্রমণেও রয়েছে বৈচিত্র্য এবং গতি, যা প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

দলের কোচ আশিষ নেহরা এবং মেন্টর ম্যাথিউ হেডেনের অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত দক্ষতা গুজরাট টাইটান্সকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। নেহরার শান্ত স্বভাব এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ দলের মধ্যে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করে। অন্যদিকে, হেডেনের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও আগ্রাসী মানসিকতা দলের স্ট্র্যাটেজিতে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।

২০২২ সালে শিরোপা জয়ের পর গুজরাট টাইটান্স নিজেদের একটি শক্তিশালী ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে গত মরশুমে প্রত্যাশামতো ফল না পাওয়ায় এবারের আইপিএল তাদের জন্য ‘কামব্যাক সিজন’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। দল ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে খেলোয়াড়রা—সকলেই এই মরশুমে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।

৩১ মার্চ পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচটি গুজরাট টাইটান্সের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচে ভালো শুরু করতে পারলে তা গোটা মরশুমের জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষ পাঞ্জাব কিংসও সমানভাবে শক্তিশালী হওয়ায় ম্যাচটি যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে চলেছে, তা বলাই যায়।

সব মিলিয়ে, গুজরাট টাইটান্স এবারের আইপিএলে অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। শুভমন গিলের নেতৃত্ব, তারকাখচিত স্কোয়াড এবং অভিজ্ঞ কোচিং স্টাফ—সব কিছু মিলিয়ে দলটি আবারও শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে এগোচ্ছে।

ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর এখন ৩১ মার্চের দিকে—সেখান থেকেই শুরু হতে চলেছে গুজরাট টাইটান্সের নতুন অধ্যায়।

Exit mobile version