গ্যাসের সঙ্কটের প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে রাজ্যের বিভিন্ন মন্দিরেও। অনেক জায়গায় ভোগ-প্রসাদ তৈরির পরিমাণ কমানো হচ্ছে, কোথাও আবার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তমলুকের বর্গভীমা মন্দির ও বাগবাজারের মায়ের বাড়ির পরে এবার দিঘার জগন্নাথ মন্দির, কলকাতার ইসকন এবং বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দিরেও একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে ভক্তদের জন্য প্রসাদ পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি, তবে অনেকটাই কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, আগে প্রতিদিন প্রায় ১০০০ থেকে ১২০০ জনের জন্য প্রসাদ রান্না করা হত। এখন সেই সংখ্যা কমিয়ে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন করা হয়েছে। কিছু গ্যাস মজুত থাকলেও তা খুবই সীমিত। তাই কাঠ ব্যবহার করেও অল্প পরিমাণে রান্না করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগের মতোই প্রসাদ দেওয়া শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
গ্যাসের ঘাটতির প্রভাব পড়েছে কলকাতার ইসকন মন্দিরেও। এখানে প্রতিদিন দুপুরে বহু ভক্তের পাশাপাশি আশপাশের অফিসকর্মীরাও ভোগ-প্রসাদ খেতেন। আগে প্রায় ৩০০ জনের জন্য ভাত, ডাল ও নানা পদ রান্না করা হত। কিন্তু গ্যাসের সঙ্কটের কারণে আপাতত মেনু বদল করা হয়েছে। এখন কম গ্যাসে রান্না করা যায় এমন খাবার হিসেবে খিচুড়ি দেওয়া হচ্ছে।
একই সমস্যা দেখা দিয়েছে বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দিরেও। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৩ মার্চ থেকে আপাতত ভক্তদের জন্য ভোগ বিতরণ বন্ধ রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার আগের মতোই প্রসাদ দেওয়া শুরু হবে।
মন্দিরগুলির মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির সরবরাহে সমস্যা তৈরি হওয়ায় এই গ্যাস সঙ্কট দেখা দিয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার আগের নিয়মেই ভোগ-প্রসাদ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
