‘প্যানিক বুকিং’ নয়, আড়াই দিনের মধ্যেই সিলিন্ডার— দেশবাসীকে আশ্বস্ত করল কেন্দ্র

দেশে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই— এমনটাই জানাল কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে পেট্রলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, গ্যাস বুক করার দুই থেকে আড়াই দিনের মধ্যেই গ্রাহকদের সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তাই ভয় পেয়ে অযথা অতিরিক্ত গ্যাস বুক করার প্রয়োজন নেই।

পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা জানান, কেউ যাতে আতঙ্কে বাড়তি গ্যাস বুক করে না রাখেন, সেই কারণে দু’টি গ্যাস বুকিংয়ের মধ্যে ন্যূনতম ব্যবধান ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। তবে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তার জেরেই অনেকেই আগেভাগে গ্যাস বুক করছেন। কিন্তু এই ‘প্যানিক বুকিং’ মূলত ভুল তথ্যের ফল বলেই জানিয়েছেন সুজাতা। তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, গ্যাস বুকিংয়ের পর আড়াই দিনের মধ্যেই সিলিন্ডার পাওয়া যাবে।

কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৫৫ লক্ষ ব্যারেল খনিজ তেল ব্যবহার হয়। ভারত অন্তত ৪০টি দেশ থেকে তেল আমদানি করে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসা কিছু তেলের সরবরাহ ব্যাহত হলেও মোট জোগানের প্রায় ৭০ শতাংশ অন্য পথ দিয়ে আসছে। শিগগিরই তেলবোঝাই আরও দু’টি জাহাজ দেশে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।

স্বাভাবিক গ্যাসের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প রুটে জোগান বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে। দেশের মোট গ্যাস চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানি করা হলেও ঘরোয়া উৎপাদনও বাড়ানো হয়েছে। সরকারের দাবি, এলপিজি উৎপাদন প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে দেশে এলপিজির মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশই আমদানি করা হয়, যার অধিকাংশই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও ভারতে তুলনামূলকভাবে কম রাখা হয়েছে বলে দাবি কেন্দ্রের। বর্তমানে দিল্লিতে ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৯১৩ টাকা এবং উজ্জ্বলা যোজনার গ্রাহকেরা তা পাচ্ছেন ৬১৩ টাকায়।

সরকারের তরফে নাগরিকদের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত বুকিং না করে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস ব্যবহার ও সংরক্ষণ করতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *