এক ঘরে স্ত্রী ও দুই কন্যার ক্ষতবিক্ষত দেহ, পাশের ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় গৃহকর্তা—চাঞ্চল্য ছড়াল মুর্শিদাবাদে। একই পরিবারের চার জনের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র শোরগোল এলাকাজুড়ে।

মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা থানার অন্তর্গত নিমতলা কুঠিবাড়ি বাগান এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যে বাড়িতে ওই পরিবার ভাড়ায় থাকত, সেদিন বেলা গড়িয়েও বাড়ির সমস্ত দরজা-জানলা বন্ধ ছিল। এতে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। বিষয়টি তাঁরা ভগবানগোলা থানায় জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দরজা ভেঙে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে।
ঘরের ভিতরে ঢুকে পুলিশ দেখতে পায়, একটি ঘরে এক মহিলা ও দুই নাবালিকার রক্তাক্ত দেহ পড়ে রয়েছে। পাশের অন্য একটি ঘরে গলায় দড়ি দেওয়া অবস্থায় ঝুলছে এক যুবকের দেহ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতেরা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী এবং তাঁদের দুই কন্যা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে গলা কেটে খুন করার পর ওই যুবক নিজে আত্মঘাতী হন।
মৃত যুবকের নাম মানিক ব্যাপারি (বয়স প্রায় ৪০)। তিনি পেশায় ফল ব্যবসায়ী ছিলেন। মানিক মূলত নদিয়ার বাসিন্দা হলেও প্রায় দশ বছর ধরে পরিবার নিয়ে মুর্শিদাবাদে থাকছিলেন। স্বপনগড় মোড় এলাকায় তাঁর একটি ফলের দোকান ছিল।
ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে কী কারণে স্ত্রী ও কন্যাদের হত্যা করে মানিক আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
