ভোটের মুখে রাজ্যের প্রশাসনে ফের বড়সড় বদল আনল নির্বাচন কমিশন। ১৭ মার্চ জারি হওয়া নির্দেশে একসঙ্গে ১৩ জন আইপিএস অফিসারের বদলির কথা জানানো হয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই পুলিশ সুপার (SP) পদে নতুন দায়িত্বে যাচ্ছেন, পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপদেও নতুন নিয়োগ করা হয়েছে।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, বদলি হওয়া আধিকারিকদের ১৮ মার্চ সকাল ১১টার মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। এই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তে স্পষ্ট, নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও নিরপেক্ষ ও কার্যকর করার দিকেই জোর দিচ্ছে কমিশন।
🔹 কোথায় কে দায়িত্বে?
নতুন তালিকা অনুযায়ী, পুষ্পা বারাসতের পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন। কোচবিহারের এসপি হচ্ছেন যশপ্রীত সিং, আর বীরভূমে দায়িত্ব পাচ্ছেন সূর্য প্রতাপ যাদব। ইসলামপুরে এসপি হিসেবে যোগ দিচ্ছেন রাকেশ সিং।
হুগলি গ্রামীণ জেলার দায়িত্বে থাকবেন কুমার সানি রাজ, আর ডায়মন্ড হারবারের এসপি হচ্ছেন ঈশানী পাল। মুর্শিদাবাদে দায়িত্ব নিচ্ছেন শচিন, বসিরহাটে অলকনন্দা ভাওয়াল এবং মালদায় অনুপম সিং।
পূর্ব মেদিনীপুরে এসপি হিসেবে অংশুমান সাহা দায়িত্ব নিচ্ছেন। জঙ্গিপুরে যাচ্ছেন সুরিন্দর সিং এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে এসপি হচ্ছেন পাপিয়া সুলতানা।
এছাড়াও কলকাতা পুলিশের ডিসি (সেন্ট্রাল) পদে নিযুক্ত হয়েছেন ইয়েলিওয়ার শ্রীকান্ত জগন্নাথরাও।
🔹 উচ্চপদে বড়সড় পরিবর্তন
শুধু এসপি স্তরেই নয়, উচ্চপদেও একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। ড. রাজেশ কুমার সিংকে দক্ষিণবঙ্গের এডিজি ও আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের এডিজি ও আইজিপি হচ্ছেন কে জয়রামন।
পুলিশ কমিশনার পদেও একাধিক নতুন মুখ এসেছে। আসানসোল-দুর্গাপুরে দায়িত্ব নিচ্ছেন ড. প্রণব কুমার। হাওড়ার নতুন পুলিশ কমিশনার হচ্ছেন অখিলেশ কুমার চতুর্বেদী। ব্যারাকপুরে দায়িত্ব পাচ্ছেন অমিত কুমার সিং এবং চন্দননগরে নতুন কমিশনার হিসেবে যোগ দিচ্ছেন সুনীল কুমার যাদব।
🔹 কেন এই রদবদল?
রাজ্যে ভোট ঘোষণার পর থেকেই প্রশাসনে ধারাবাহিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর আগে মুখ্য সচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিবের পদে বদল আনা হয়েছিল। তারপর রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদেও পরিবর্তন করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে ভোট প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখার কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবেদনশীল জেলাগুলিতে নতুন আধিকারিকদের নিয়োগের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা আরও কড়া রাখা এবং নির্বাচনী আচরণবিধি সঠিকভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে প্রশাসনিক স্তরে এই বড়সড় রদবদল রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল। এখন দেখার, এই পরিবর্তন ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলে।
