বিধানসভা নির্বাচনের মুখে প্রশাসনে বড়সড় রদবদল করল নির্বাচন কমিশন। পুলিশ সুপারদের বদলির পর এবার পশ্চিমবঙ্গের ১১টি জেলার জেলাশাসক (DM) পরিবর্তন করা হয়েছে। পাশাপাশি কলকাতার উত্তর ও দক্ষিণ অংশের জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO)-তেও বদল আনা হয়েছে।
যে জেলাগুলিতে এই পরিবর্তন করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগনা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা।
নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের তালিকায় রয়েছেন— কোচবিহারে জিতিন যাদব, জলপাইগুড়িতে সন্দীপ ঘোষ, উত্তর দিনাজপুরে বিবেক কুমার, মালদায় রজনবীর সিং কাপুর, মুর্শিদাবাদে আর. অর্জুন, নদিয়ায় শ্রীকান্ত পল্লি, পূর্ব বর্ধমানে শ্বেতা আগরওয়াল, উত্তর ২৪ পরগনায় শিল্পা গৌরিসারিয়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় অভিষেক কুমার তিওয়ারি, দার্জিলিংয়ে হরিশঙ্কর পানিক্কর এবং আলিপুরদুয়ারে টি. বালাসুব্রহ্মণ্যম।
কলকাতায় উত্তর অংশের DEO ও মিউনিসিপ্যাল কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন স্মিতা পাণ্ডে। দক্ষিণ কলকাতার DEO হয়েছেন রণধীর কুমার।
ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট জারি হয়েছে, ফলে এখন প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে। নির্বাচনকে অবাধ ও স্বচ্ছ রাখতে বিভিন্ন জেলায় নতুন মুখ আনা হচ্ছে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
উল্লেখ্য, এর আগেই রাজ্যের একাধিক শীর্ষ পদে রদবদল করা হয়েছে। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, কলকাতার পুলিশ কমিশনার, ডিজি ও এডিজি-সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ আধিকারিককে সরানো হয়েছে। এছাড়া এখনও পর্যন্ত ১২ জন পুলিশ সুপার, ৫ জন ডিআইজি এবং একাধিক কমিশনারেটের পুলিশ প্রধানকেও বদলি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ রাখতে এই ধরনের প্রশাসনিক পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কমিশনের এই পদক্ষেপে ভোটের আগে প্রশাসনে বড় প্রভাব পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
