উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়নগর : এক সময় জয়নগরই ছিল এসইউসিআই-এর দূর্গ৷শিবদাস ঘোষ, সুবোধ ব্যানার্জী থেকে শুরু করে দেবপ্রসাদ সরকার, তরুণ কান্তি নস্করের মতন মানুষ বিধায়ক ছিলেন জয়নগরে। রাজ্যে বামফন্ট্রের অবসান ঘটে ২০১১ সালে। সেই বছর তৃণমূল কংগ্রেসের জোট শরিক হয়ে এসইউসিআই জয়নগর আসনটি তাদের দখলে রাখে। পরে জোট ভেঙে গেলে ২০১৬ সাল থেকে এই আসন তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে চলে যায়। তবে আসন হাতছাড়া হলেও লড়াইয়ের ময়দান থেকে তারা পিছু হটেনি। ২০২৪-এর পর আবার ২০২৬ ও এই কেন্দ্রে তাদের প্রার্থী নিরঞ্জন নস্কর৷ ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটে এসইউসিআই-এর হয়ে জয়নগর লোকসভা কেন্দ্রে লড়েছিলেন নিরঞ্জন নস্কর। তিনিই আবার জয়নগর বিধানসভা কেন্দ্রে এসইউসিআই প্রার্থী। প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই নেমে পড়েছেন কর্মীরা দেওয়াল লিখনের কাজে। প্রার্থী নিজে দেওয়াল লিখনের পাশাপাশি জনসংযোগে নজর দিয়েছে। জয়নগর-মজিলপুর পুর শহরে যানজট একটি প্রবল সমস্যা। আর এই সমস্যা থেকে শহরকে মুক্ত করাই প্রধান লক্ষ্য নিরঞ্জনবাবুর। জয়নগর মজিলপুর পুরসভা এলাকার-৭ নং ওয়ার্ডের তিলিপাড়ায় বাড়ি নিরঞ্জনবাবুর। তিনি এসইউসিআই-এর ট্রেড ইউনিয়ন কমিটির সদস্য ও বারুইপুর সাংগঠনিক জেলার দলের সম্পাদক। ভোটের প্রচারে বেড়িয়ে নিরঞ্জনবাবু বলেন, আমি দলের পুরনো কর্মী। লোকসভা ভোটে পরাজিত হওয়ার পরেও জনসংযোগে পিছিয়ে যাইনি। তাই দল প্রার্থী করেছে। গোটা বিধানসভার মধ্যে জয়নগর শহরে ঢোকার মুখে মিত্রগঞ্জ বাজার থেকে শুরু করে জয়নগর স্টেশন মোড় পর্যন্ত সবসময় তীব্র যানজটে তিতিবিরক্ত মানুষ। শাসক দলের বিধায়ক বিশ্বনাথ দাস এই ব্যাপারে উদাসীন। এই যানজট দূর করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। প্রয়োজনে এই এলাকায় বাইপাস নির্মাণের চিন্তা ভাবনাও আছে। আমি বাড়ি বাড়ি ঘুরে প্রচারে জোর দিচ্ছি। জয়নগর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটারেরা বদল চান দু’বারের বিধায়কের। দুর্নীতি আর স্বজনপোষণ দেখতে দেখতে মানুষ বিরক্ত৷ তাই আমি জেতার ব্যাপারে আশাবাদী।
জয়নগরকে যানজটমুক্ত করার লক্ষে জিততে মরিয়া জয়নগরের এসইউসিআই প্রার্থী নিরঞ্জন নস্কর
