বাংলার রাজনীতিতে বড়সড় ঝাঁকুনি দিল কংগ্রেস। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এককভাবেই রাজ্যের ২৯৪টি আসনে লড়াই করবে কংগ্রেস—এমনই স্পষ্ট ঘোষণা করল দল। বামেদের সঙ্গে জোটের কোনও প্রশ্নই নেই বলে জানিয়ে দিল এআইসিসি নেতৃত্ব। দিল্লিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত কার্যত সিলমোহর পেল।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দিল্লিতে বসেছিল কংগ্রেসের হাই-ভোল্টেজ বৈঠক। উপস্থিত ছিলেন দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক ও বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত গুলাম আহমদ মীর, প্রাক্তন পিসিসি প্রধান অধীর রঞ্জন চৌধুরী, সাংসদ ঈশা খান চৌধুরী-সহ শীর্ষ নেতৃত্ব। বৈঠকের একমাত্র এজেন্ডা ছিল—বাংলায় কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রোডম্যাপ।
জোটে ভরসা নয়, ক্যাডারই ভরসা
বৈঠক শেষে গুলাম আহমদ মীর স্পষ্ট করে দেন, এবার জোট রাজনীতিতে আর আস্থা রাখছে না কংগ্রেস। তাঁর কথায়,
“বামেদের সঙ্গে জোটে গেলে কংগ্রেস কর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়ে। বারবার সেই অভিজ্ঞতা হয়েছে। তাই সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত—সব আসনে এককভাবে লড়াই করবে কংগ্রেস।”
পিসিসির বিবৃতিতে সিলমোহর
দিল্লির বৈঠকের পরই রাজ্য কংগ্রেস (PCC) আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে জানানো হয়,
“খাড়্গে, রাহুল গান্ধী, গুলাম আহমদ মীর, শুভঙ্কর সরকার ও অধীর চৌধুরীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার পর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন এককভাবে লড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলার কংগ্রেস কর্মীদের মানসিকতাকে সম্মান জানিয়েই এই সিদ্ধান্ত।”
২০২১-এর জোট ব্যর্থতার ছায়া
এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে বড় কারণ ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের তিক্ত অভিজ্ঞতা। সেবার বামেদের সঙ্গে জোট বেঁধেও কংগ্রেস একটি আসনও জিততে পারেনি। তৃণমূল পেয়েছিল ২১৩টি আসন, বিজেপি ৭৭টি। কংগ্রেসের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল—বামেদের সঙ্গে জোট মানেই দলের নিজস্ব অস্তিত্ব আরও দুর্বল হয়ে পড়া। সেই ক্ষোভই এবার প্রকাশ্যে এল।
নতুন কৌশল, নতুন বার্তা
তৃণমূলের একচেটিয়া দাপট ও বিজেপির উত্থানের মাঝে কংগ্রেস কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল বাংলায়। এবার দল চাইছে নিজেদের শক্তিতে, নিজেদের পরিচয়ে রাজনীতির ময়দানে ফিরতে। নেতৃত্বের বক্তব্য, একক লড়াইই কর্মীদের আত্মবিশ্বাস ফেরাতে পারে।
অধীর চৌধুরীর প্রতিক্রিয়া
প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন,
“২০১৬ সালে বামেদের সঙ্গে জোট করে আমরা বিরোধী দলের মর্যাদা পেয়েছিলাম। এরপর নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে রাজনীতি এগিয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেসের সার্ভে বলছে, একা লড়াই করাই ঠিক। হাই কমান্ড যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমি তা মেনে চলি।”
তবে তিনি স্পষ্ট করেন, কে মুখ হয়ে বিধানসভা ভোটে লড়বে বা তিনি নিজে প্রার্থী হবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
সব মিলিয়ে, ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের লড়াই শুরু হয়ে গেল অনেক আগেই। জোট রাজনীতিকে ছাপিয়ে কংগ্রেসের এই একলা চলো নীতিই এখন বাংলার রাজনীতিতে নতুন চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।
