বাম না তৃণমূল? জোট প্রশ্নে কংগ্রেসে টানাপড়েন, সেলিম বনাম শুভঙ্কর

পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের রণকৌশল ও জোট রাজনীতি ঘিরে চলা নানা জল্পনার অবসান ঘটাতে প্রকাশ্যে মুখ খুললেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। শনিবার জারি করা এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট জানান, সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো নানা মন্তব্য ও বিশ্লেষণের সঙ্গে দলের প্রকৃত অবস্থানের কোনও মিল নেই।

বিবৃতিতে শুভঙ্কর সরকার জানান, কংগ্রেসের কোনও সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত মতামতের ভিত্তিতে নয়, বরং দলের গণতান্ত্রিক কাঠামো মেনেই নেওয়া হয়। প্রদেশ ও কেন্দ্রীয় স্তরের নির্ধারিত কমিটির মাধ্যমেই জোট, আসন সমঝোতা বা নির্বাচনী কৌশল চূড়ান্ত করা হয়।প্রদেশ কংগ্রেসের দাবি, তাদের রাজনৈতিক লড়াই দ্বিমুখী। একদিকে বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে যেমন তারা সোচ্চার, তেমনই তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্নীতির বিরুদ্ধেও সমানভাবে অবস্থান নিয়েছে দল। আদর্শগত প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা কংগ্রেসের ভূমিকা ও সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন। সেই প্রসঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন, ১৫০ বছরের পুরনো এই দল নির্দিষ্ট সাংগঠনিক নিয়ম মেনেই চলে। তৃণমূল স্তরের কর্মীদের মতামত এবং সাংগঠনিক আলোচনার মাধ্যমেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাইরের কোনও চাপ বা অন্য দলের বক্তব্যে কংগ্রেস প্রভাবিত হবে না।বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক কথাবার্তার মান ক্রমশ নিচে নামছে, যা দুর্ভাগ্যজনক। কংগ্রেস কাদা ছোড়াছুড়ির রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয় এবং কোনও সিদ্ধান্ত তাড়াহুড়ো করে নেওয়া হবে না। আলোচনা চলা মানেই সিদ্ধান্তহীনতা—এই ধারণা ভুল বলেই দাবি দলের।উল্লেখ্য, লোকসভা নির্বাচনে বামেদের সঙ্গে জোট করে লড়াই করেছিল কংগ্রেস। এরপর ছয়টি বিধানসভা উপনির্বাচনে একা লড়ে ভরাডুবির মুখে পড়ে দল। পরে কালীগঞ্জ উপনির্বাচনে বামেদের সমর্থনে প্রার্থী দিয়ে তুলনামূলকভাবে ভালো ফল করে কংগ্রেস। এই প্রেক্ষাপটেই বিধানসভা নির্বাচনে একলা লড়াইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা বাড়ে।এই বিষয়টি ঘিরেই কংগ্রেস নেতৃত্বকে কটাক্ষ করেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান কংগ্রেস নেতৃত্ব এখনও জোট প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থান নিতে পারেনি। তিনি দাবি করেন, আগের প্রদেশ সভাপতি অধীর চৌধুরীর সময় বামফ্রন্টের সঙ্গে আসন সমঝোতা হয়েছিল, কিন্তু বর্তমান নেতৃত্বের মধ্যে তৃণমূলের প্রতি নরম মনোভাব দেখা যাচ্ছে।সেলিমের আরও বক্তব্য, কংগ্রেসকে ঠিক করতে হবে তারা বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রকৃত লড়াইয়ে নামবে কি না এবং কার সঙ্গে থাকবে। বামফ্রন্ট নিজেদের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে এবং অনির্দিষ্টকাল অপেক্ষা করবে না বলেও তিনি স্পষ্ট জানান।হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘিরে শুরু হওয়া এই রাজনৈতিক চাপানউতোর ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাম-কংগ্রেস সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। জোট কি আদৌ টিকবে, নাকি দূরত্ব আরও বাড়বে—সেই উত্তর আপাতত সময়ের হাতেই রইল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *