অষ্টম শ্রেণির নতুন NCERT সমাজবিজ্ঞান বইয়ে ‘বিচারব্যবস্থায় দুর্নীতি’ সংক্রান্ত অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন দেশের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্ত। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিচারব্যবস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার যে কোনও প্রচেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।
আদালতে উঠল বিষয়টি
সুপ্রিম কোর্টে এদিন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে ‘জুডিশিয়াল করাপশন’ অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় আইনজীবী মহলের অনেকেই উদ্বিগ্ন।
এ প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, এটি বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে “পরিকল্পিত ও গভীরভাবে প্রোথিত আক্রমণ” বলেই মনে হচ্ছে। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই বহু ফোন ও বার্তা পেয়েছেন, এমনকি হাইকোর্টের বিচারপতিরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সিজেআই বলেন, “আমরা কাউকে বিচারব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করতে দেব না।”
‘নির্বাচিত আক্রমণ’ অভিযোগ
এদিন আদালতে উপস্থিত প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক সিংভি প্রশ্ন তোলেন, কেন শুধু বিচারব্যবস্থাকেই আলাদা করে দুর্নীতির প্রসঙ্গে তুলে ধরা হচ্ছে? তাঁর বক্তব্য, দুর্নীতি যদি আলোচনা করতেই হয়, তবে রাজনীতি, আমলাতন্ত্র বা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলির কথাও সমানভাবে থাকা উচিত।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, পাঠ্যবইয়ের কাঠামোয় সাংবিধানিক সততার বিষয়টি যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
বিতর্কের মূল কারণ কী?
নতুন সংশোধিত NCERT সমাজবিজ্ঞান বইয়ের ‘The Role of the Judiciary in Our Society’ অধ্যায়ে ভারতের বিচারব্যবস্থায় মামলা জট এবং দুর্নীতির প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
বই অনুযায়ী—
- সুপ্রিম কোর্টে প্রায় ৮১,০০০ মামলা বিচারাধীন
- হাইকোর্টে ৬০ লক্ষেরও বেশি মামলা ঝুলে রয়েছে
- নিম্ন আদালতগুলিতে ৪ কোটির বেশি মামলা বিচারাধীন
বিচারকের সংখ্যা কম, জটিল আইনি প্রক্রিয়া ও পরিকাঠামোর ঘাটতিকে এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ‘বিচারব্যবস্থায় দুর্নীতি’ প্রসঙ্গটিই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
সরকার বনাম বিচারব্যবস্থা—নতুন করে টানাপোড়েন?
এই বিতর্ক এমন সময়ে সামনে এল, যখন বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে সরকার ও সুপ্রিম কোর্টের মধ্যে মতবিরোধের প্রসঙ্গও বারবার উঠে আসছে। ২০১৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট এনজেএসি (NJAC) আইন খারিজ করে দেয়, যা বিচারপতি নিয়োগে কলেজিয়াম পদ্ধতির বিকল্প হিসেবে সংসদ পাশ করেছিল।
প্রাক্তন আইনমন্ত্রী কিরেন রিজিজু সহ কয়েকজন নেতা অতীতে কলেজিয়াম ব্যবস্থার সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, বিচারপতিরাই বিচারপতি নিয়োগ করছেন—এমন ব্যবস্থা বিশ্বের অন্য কোথাও নেই।
এই পরিস্থিতিতে NCERT-র বই ঘিরে বিতর্ক ভবিষ্যতে বিচারব্যবস্থা ও সরকারের সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেয় কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক ও আইনি মহলের।
