Site icon PrimeTime

বাজেট অধিবেশনে তীব্র সংঘাত! সংখ্যালঘু বরাদ্দ ঘিরে অগ্নিমিত্রা পাল–ফিরহাদ হাকিমের বাকযুদ্ধে উত্তাল বিধানসভা

12 1024x536

রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশন কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হল। অন্তর্বর্তী বাজেটের উপর আলোচনা চলাকালীন বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালপুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা পরিস্থিতিকে চরমে পৌঁছে দেয়। বাজেট আলোচনার বদলে ব্যক্তিগত ও সাম্প্রদায়িক মন্তব্য ঘিরে বিধানসভার পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

অন্তর্বর্তী বাজেটে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষায় বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন অগ্নিমিত্রা পাল। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি অনুপ্রবেশ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে এনে তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করেন। তাঁর মন্তব্যে বিধানসভায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

অগ্নিমিত্রা পালের বিস্ফোরক মন্তব্য

বিজেপি বিধায়কের দাবি,

“এই সরকার সংখ্যালঘুদের হাতে বন্দুক তুলে দিচ্ছে। মাদ্রাসা শিক্ষায় বাজেট বাড়ানো হলেও, সেই শিক্ষার ফল কোথায়? কেন মাদ্রাসা পড়ুয়ারা ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছে না? বরং কেন অপরাধের দিকে ঝুঁকছে কেউ কেউ? সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষায় বরাদ্দ ১০ শতাংশ বৃদ্ধি কি সত্যিই শিক্ষার জন্য, না কি অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করতে? সবটাই রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা।”

এই বক্তব্যের পরেই বিধানসভায় তীব্র হইচই শুরু হয়। তৃণমূল বিধায়কদের তরফে প্রতিবাদ জানানো হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ফিরহাদ হাকিমের পাল্টা জবাব

অগ্নিমিত্রা পালের মন্তব্যের কড়া বিরোধিতা করে সরাসরি জবাব দেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন,

“সংখ্যালঘুরা কখনওই ক্রিমিনাল নয়। স্বাধীনতা আন্দোলনে আমরা প্রাণ দিয়েছি। অথচ আপনারা আমাদের ঘৃণা করেন। এপিজে আব্দুল কালাম কি ক্রিমিনাল ছিলেন? কাজি নজরুল ইসলাম কি ক্রিমিনাল ছিলেন? মুসলমানরা অপরাধী নয়। এই দেশ সবার, কোনও একটি সম্প্রদায়ের একার নয়।”

মন্ত্রী ফিরহাদের এই বক্তব্যের পর বিজেপি ও তৃণমূল বিধায়কদের মধ্যে স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে পরিস্থিতি কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

স্পিকারের হস্তক্ষেপ

অধিবেশন কক্ষে ক্রমাগত চিৎকার ও বাকবিতণ্ডার মধ্যে একাধিকবার হস্তক্ষেপ করেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অগ্নিমিত্রা পালকে সতর্ক করে বলেন,

“এমন কোনও শব্দ ব্যবহার করবেন না যাতে অন্য কেউ আঘাত পান। কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে আঘাত করে এমন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।”

তবে স্পিকারের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনা বজায় থাকে। বাজেট নিয়ে গঠনমূলক আলোচনার পরিবর্তে এই সংঘাত বিধানসভার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

সব মিলিয়ে, সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষায় বরাদ্দকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে এক নজিরবিহীন অশান্ত পরিবেশের জন্ম দিল।

Exit mobile version