ডিমকে অনেকেই “সুপারফুড” বলে থাকেন। উচ্চমানের প্রোটিন, প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড, ভিটামিন বি১২, কোলিন এবং লুটেইনের মতো অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে সমৃদ্ধ ডিম শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। বর্তমান খাদ্য নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিশেষ কোনও শারীরিক সমস্যা না থাকলে প্রতিদিন একটি ডিম খাওয়া যেতে পারে সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে।
তবে বাজারে এখন সাদা, বাদামি, ডাবল কুসুম, প্রোটিন-সমৃদ্ধ, ফার্ম-ফ্রেশ—এমন নানা ধরনের ডিম পাওয়া যায়। ফলে কোনটি বেছে নেওয়া উচিত তা নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়েন। এই বিভ্রান্তি দূর করতে মুখ খুললেন বেঙ্গালুরুর অ্যাস্টার সিএমআই হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন ও ডায়েটেটিক্স বিভাগের প্রধান এডউইনা রাজ।
সাদা ও বাদামি ডিমের পার্থক্য কোথায়?
এডউইনা রাজ জানান, সাদা ও বাদামি ডিমের মূল পার্থক্য কেবল খোসার রঙে। বাদামি ডিম পাড়ে সাধারণত লাল বা বাদামি পালকের মুরগি, আর সাদা ডিম আসে সাদা পালকের মুরগি থেকে। তবে খোসার রঙ ডিমের ভিতরের পুষ্টিগুণে কোনও পরিবর্তন আনে না।
কোন ডিম বেশি পুষ্টিকর?
পুষ্টিবিদের মতে, সাদা ও বাদামি—দুই ধরনের ডিমেই প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন বি১২ ও ডি, আয়রন, জিঙ্কসহ প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকে। শরীর উভয় ধরনের ডিম থেকেই সমানভাবে পুষ্টি গ্রহণ করে। তাই পুষ্টির দিক থেকে কোনওটিই অন্যটির চেয়ে এগিয়ে নয়।
অনেকে মনে করেন বাদামি ডিম দেখতে বেশি “প্রাকৃতিক” বলে তা বেশি স্বাস্থ্যকর। কিন্তু এই ধারণা সঠিক নয়। ডিমের গুণমান বেশি নির্ভর করে মুরগিকে কীভাবে পালন করা হয়েছে, কী খাওয়ানো হয়েছে এবং ডিম কতটা তাজা—এই বিষয়গুলির উপর। ফ্রি-রেঞ্জ বা ভালো খাবার খাওয়া মুরগির ডিমে সামান্য বেশি পুষ্টি থাকতে পারে, তবে সেটি খোসার রঙের উপর নির্ভর করে না।
দাম বেশি কেন?
অনেক সময় দেখা যায় বাদামি ডিমের দাম বেশি। রাজের মতে, এর কারণ হল বাদামি ডিম পাড়া মুরগি তুলনামূলক বেশি খাবার খায় বা পালন করতে বেশি খরচ হয়। ডিমের পুষ্টিগুণের জন্য নয়, উৎপাদন খরচের জন্যই দাম বাড়ে।
কতটা ডিম খাওয়া উচিত?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুষম খাদ্য, বৈচিত্র্য ও পরিমিতি বজায় রাখা জরুরি। যাদের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে নেই বা নির্দিষ্ট মেটাবলিক সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডিম খাওয়া উচিত।
দায়স্বীকার: এই প্রতিবেদনটি জনসাধারণের জন্য উপলব্ধ তথ্য এবং বিশেষজ্ঞের মতামতের ভিত্তিতে প্রস্তুত। নিয়মিত খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।
