১৪ মার্চ ব্রিগেডে মোদির মেগা সভা, ‘পরিবর্তন যাত্রা’র সমাপ্তিতে শক্তি প্রদর্শনে বিজেপি

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। এই আবহেই রাজ্যে বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু হয়েছিল গত ১ মার্চ। রাজ্যের নয়টি ভিন্ন প্রান্ত থেকে এই যাত্রা শুরু হয়, যেখানে দলের শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন জেলা ও গ্রামে গিয়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা করছেন।

দলের দাবি, এই পরিবর্তন যাত্রার লক্ষ্য রাজ্যের মানুষের কাছে পৌঁছে তাঁদের সমস্যার কথা তুলে ধরা এবং তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা। বিজেপির শীর্ষ নেতা অমিত শাহ-সহ দলের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।

১৪ মার্চ ব্রিগেডে সমাবেশ

এই ঐতিহাসিক পরিবর্তন যাত্রার সমাপ্তি হবে ১৪ মার্চ কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে একটি বিশাল জনসভা দিয়ে। দুপুর ১টায় অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

বিজেপি নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই ‘ব্রিগেড চলো’ স্লোগান তুলে সমর্থকদের ওই সমাবেশে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। দলের মতে, এই সভা থেকেই পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের বার্তা আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।

বিজেপির প্রতিশ্রুতি

পরিবর্তন যাত্রার মঞ্চ থেকে বিজেপি রাজ্যের মানুষের জন্য একাধিক প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরছে। এর মধ্যে অন্যতম—

  • সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন দ্রুত কার্যকর করা
  • চাকরি দুর্নীতিতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বয়সে বিশেষ ছাড়
  • ২০২৬ সালের মধ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো
  • রাজ্যে মহিলাদের নিরাপত্তা জোরদার করা

দলের দাবি, যদি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠন করতে পারে, তাহলে সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা হবে

তৃণমূলের কটাক্ষ

অন্যদিকে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির এই পরিবর্তন যাত্রাকে কটাক্ষ করে ‘নাটক’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তৃণমূলের দাবি, এই কর্মসূচিতে মানুষের অংশগ্রহণ খুবই কম এবং এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রচারের অংশ।

উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি

এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক উত্তেজনাও তৈরি হয়েছে। কোথাও বিজেপি নেতাদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে, আবার কোথাও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে লড়াই আরও তীব্র হতে চলেছে। সেই প্রেক্ষিতে ব্রিগেডের এই সভাকে বিজেপির বড় শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *