লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকেই দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন কার্শিয়াংয়ের বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা। দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীর বিরোধিতা করে তিনি নির্দল প্রার্থী হিসেবেও মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। যদিও তখন তাঁর বিরুদ্ধে দল কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি।
তবে বিধানসভা ভোটের আগে বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও শশী পাঁজার উপস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন বিষ্ণুপ্রসাদ। জোড়াফুলের পতাকা হাতে তুলে নিয়ে তিনি বলেন, “টিকিটের জন্য তৃণমূলে যোগ দিইনি। দল টিকিট না দিলেও কোথাও যাব না।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, পাহাড়ে বিষ্ণুপ্রসাদের সংগঠনগত প্রভাব রয়েছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড় ছিল বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। সেই প্রেক্ষাপটে তাঁর দলবদল পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিগত কয়েক বছরে বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিকবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন বিষ্ণুপ্রসাদ। তাঁর অভিযোগ ছিল, পাহাড়ের মানুষকে বিজেপি একাধিক প্রতিশ্রুতি দিলেও তা পূরণ করেনি। তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধেও বঞ্চনার অভিযোগ তোলেন তিনি। একই সঙ্গে জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব ও দলের নীতিই তিনি মেনে চলবেন।
অন্যদিকে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা কটাক্ষ করে বলেন, “বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। এই ধরনের নেতাদের জায়গা তৃণমূলেই হয়।”
বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই দলবদল পাহাড় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
