কয়েকটি বিরিয়ানি দোকান থেকে শুরু, ফাঁস ৭০ হাজার কোটির ট্যাক্স ফাঁকি চক্র

বিল মুছে বিক্রি কম দেখানোর অভিযোগ, ১ লক্ষের বেশি রেস্তোরাঁর ডেটা খতিয়ে দেখছে আয়কর দফতর

নয়াদিল্লি/হায়দরাবাদ: কয়েকটি বিরিয়ানি রেস্তোরাঁয় নিয়মিত পরিদর্শন করতে গিয়ে বড়সড় ট্যাক্স ফাঁকির হদিস পেল আয়কর দফতর। তদন্তে উঠে এসেছে, সারা দেশে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকার টার্নওভার গোপন করা হয়ে থাকতে পারে।

সূত্রের খবর, গত বছরের শেষ দিকে হায়দরাবাদের কয়েকটি জনপ্রিয় রেস্তোরাঁয় আয়কর আধিকারিকরা রুটিন চেকিং করতে যান। বাইরে থেকে সব স্বাভাবিক থাকলেও বিলিং ডেটা এবং বাস্তব বিক্রির মধ্যে অসঙ্গতি নজরে আসে।

দোকানে যত ক্রেতা, বিলিং সিস্টেমে তত বিক্রির হিসেব নেই—এই গরমিল থেকেই শুরু হয় বিস্তারিত তদন্ত।


৬০ টেরাবাইট ডেটা উদ্ধার

তদন্তকারীরা সংশ্লিষ্ট বিলিং সফটওয়্যারের ব্যাকএন্ড সার্ভার খতিয়ে দেখেন। সেখান থেকে প্রায় ৬০ টেরাবাইট তথ্য উদ্ধার করা হয়। জানা যায়, ১ লক্ষেরও বেশি রেস্তোরাঁর গত ছয় বছরের বিলিং তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রাথমিক রিপোর্টে দেখা গেছে—

  • মোট বিল তৈরি হয়েছে প্রায় ২.৪৩ লক্ষ কোটি টাকার
  • তার মধ্যে ১৩ হাজার কোটিরও বেশি বিল পরে মুছে ফেলা হয়েছে
  • গড়ে প্রায় ২৫–২৭ শতাংশ বিক্রি কম দেখানোর প্রবণতা

আয়কর দফতরের অনুমান, মোট গোপন টার্নওভার প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে।


কীভাবে চলত কারচুপি?

তদন্তে উঠে এসেছে, অনেক রেস্তোরাঁয় বিল তৈরি করার পর তা পরে ‘ডিলিট’ করা হত। কোথাও প্রতিদিন কিছু ক্যাশ বিল মুছে দেওয়া হত, আবার কোথাও একসঙ্গে কয়েক দিনের সম্পূর্ণ রেকর্ড মুছে ফেলার ঘটনা ধরা পড়েছে।

কিছু ক্ষেত্রে সফটওয়্যারে পুরো বিক্রির হিসেব থাকলেও আয়কর রিটার্নে অনেক কম আয় দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ।


একাধিক রাজ্যে গরমিল

সূত্রের দাবি, কর্ণাটকে প্রায় ২০০০ কোটি টাকার ডিলিটেড লেনদেনের হদিস মিলেছে। তেলেঙ্গানায় সেই অঙ্ক প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা। তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র ও গুজরাটেও অসঙ্গতি ধরা পড়েছে।

অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানার ৩,৭০০-র বেশি PAN নম্বর খতিয়ে দেখে ৫,০০০ কোটিরও বেশি বিক্রি চাপা দেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।


বিরিয়ানি কেন তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ?

আয়কর দফতর জানিয়েছে, কোনও বিশেষ খাবার বা সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে তদন্ত করা হচ্ছে না। তবে তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিরিয়ানি বিক্রি বেশি হয় এমন রেস্তোরাঁয় তুলনামূলক বেশি গরমিল পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিরিয়ানির মতো নির্দিষ্ট দামের ও নির্দিষ্ট উপকরণের খাবারের ক্ষেত্রে কাঁচামাল কেনা এবং বিক্রির পরিমাণ মিলিয়ে সহজেই সম্ভাব্য আয় অনুমান করা যায়। সেই তুলনায় ঘোষিত আয় কম থাকলে সন্দেহ তৈরি হয়।


তদন্তে নজর CBDT-র

কেন্দ্রীয় প্রত্যক্ষ কর পর্ষদ (CBDT) তদন্ত আরও বিস্তৃত করেছে। পুনর্গঠিত বিলের সঙ্গে ট্যাক্স রিটার্ন ও ব্যাংক লেনদেন মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে নোটিস ও জরিমানার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সূত্রের খবর।

তদন্তকারীদের মতে, ডিজিটাল যুগে বিল মুছে ফেললেও সার্ভারে তার ছাপ থেকে যায়। সেই ডিজিটাল তথ্যই এখন বড় প্রমাণ হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *