পুরনো বিধায়ককে আর চাই না, স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রার্থী দাবি— ভাতারে পোস্টার ঘিরে চাঞ্চল্য

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে পড়ল বিতর্কিত পোস্টার। বর্তমান বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারীর বিরুদ্ধে এই পোস্টার পড়ায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। ভাতার বাজার, কামারপাড়া মোড়, নতুন বাসস্ট্যান্ড-সহ একাধিক এলাকায় শনিবার সকালে এই পোস্টার দেখা যায়।

পোস্টারে লেখা হয়েছে, “স্বজনপোষণকারী ও মূর্খ বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী এবং বিজেপির দালাল শান্তনু কোনারের কার্যকলাপে ভাতারের সর্বস্তরের মানুষ বিরক্ত। স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও সুশিক্ষিত কাউকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভাতারের বিধায়ক পদপ্রার্থী হিসেবে দেখতে চান সাধারণ মানুষ।” পোস্টারের নীচে সৌজন্যে লেখা রয়েছে— “ভাতারের নাগরিকবৃন্দ”।

শুধু মানগোবিন্দ অধিকারী নন, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু কোনারের বিরুদ্ধেও পোস্টার পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর জেরে শাসকদলের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ভাতারে তৃণমূলের অন্তর্কলহ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চর্চা রয়েছে। প্রাক্তন বিধায়ক বনমালী হাজরা ও বর্তমান বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারীর সম্পর্ক যে খুব একটা মসৃণ নয়, এমন দাবি স্থানীয়দের একাংশের। মাঝে মাঝেই সেই মতবিরোধের ইঙ্গিত সামাজিক মাধ্যমেও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে বিধায়কের নামে পোস্টার পড়ায় নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে মানগোবিন্দ অধিকারী বলেন, “যে যা খুশি বলতে পারে। যারা এসব বলছে, তারা দলের কেউ নয়। এসব নিয়ে আমার কোনও মাথাব্যথা নেই। স্বজনপোষণের অভিযোগ যারা করছে, তারাই প্রমাণ দিক।”

এ বিষয়ে জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম বলেন, “তৃণমূল সব সময় মানুষের পাশে থাকে। যারা মানুষের পাশে থাকে না, তারাই এই ধরনের নোংরা রাজনীতি করে। তৃণমূলকে হেয় করার জন্যই এই পোস্টার দেওয়া হয়েছে।”

অন্যদিকে, শাসকদলকে কটাক্ষ করে বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, “তৃণমূল যে দুর্নীতিগ্রস্ত দল, সাধারণ মানুষের পোস্টারেই তা পরিষ্কার। এর বেশি কিছু বলার প্রয়োজন নেই।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাতারের রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই জেলায় জেলায় এই ধরনের পোস্টার-রাজনীতি নতুন করে সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *