কৃষকদের জন্য ২৪ ঘণ্টার ‘ডিজিটাল বিশেষজ্ঞ’ ভারত-ভিস্তার চালু করছে কেন্দ্র, ফোন করলেই মিলবে পরামর্শ

কৃষকদের হাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-ভিত্তিক নতুন ডিজিটাল সহায়তা তুলে দিতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। মঙ্গলবার জয়পুরে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে ভারত-ভিস্তার (Bharat-VISTAAR — Virtually Integrated System to Access Agricultural Resources)। এটি একটি বহুভাষিক AI টুল, যার মাধ্যমে কৃষকরা নিজেদের ভাষায় চাষাবাদ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও পরামর্শ পেতে পারবেন।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান এবং রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা যৌথভাবে এই পরিষেবার উদ্বোধন করবেন।

কীভাবে কাজ করবে ভারত-ভিস্তার?

ভারত-ভিস্তার ২৪ ঘণ্টা উপলব্ধ থাকবে এক ‘ডিজিটাল কৃষি বিশেষজ্ঞ’ হিসেবে। এর ভিতরে থাকা কথোপকথনভিত্তিক AI সহকারীর নাম ‘ভারতী’। কৃষকরা দুটি উপায়ে এই পরিষেবা ব্যবহার করতে পারবেন—

  • মোবাইল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে
  • সরাসরি ফোন করে ১৫৫২৬১ নম্বরে ডায়াল করে

একটি সাধারণ ফোন কলের মাধ্যমেই কৃষকরা ফসল পরিকল্পনা, চাষের পদ্ধতি, কীটপতঙ্গের আক্রমণ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, বাজারদর, সরকারি প্রকল্পের তথ্য, যোগ্যতা, আবেদন প্রক্রিয়া ও অভিযোগ জানানোর মতো পরিষেবা পাবেন।

কোন কোন প্রকল্পের তথ্য মিলবে?

সূত্রের দাবি, চালুর পর কৃষকরা অন্তত ১০টি বড় কেন্দ্রীয় প্রকল্প সম্পর্কে তথ্য জানতে পারবেন। এর মধ্যে রয়েছে—

  • প্রধানমন্ত্রী কিষাণ (PM-KISAN)
  • প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা (PMFBY)
  • সয়েল হেলথ কার্ড (SHC)
  • মডিফায়েড ইন্টারেস্ট সাবভেনশন স্কিম
  • সাব-মিশন অন অ্যাগ্রিকালচারাল মেকানাইজেশন
  • পার ড্রপ মোর ক্রপ
  • প্রধানমন্ত্রী কৃষি সিঞ্চাই যোজনা
  • প্রধানমন্ত্রী অন্নদাতা আয় সনরক্ষণ অভিযান
  • অ্যাগ্রিকালচার ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড
  • কিষাণ ক্রেডিট কার্ড

এছাড়াও আবহাওয়া ও পোকামাকড় সংক্রান্ত সতর্কবার্তাও পাঠানো হবে।

বাজেটে ঘোষণা, বরাদ্দ ১৫০ কোটি টাকা

উল্লেখ্য, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ভারত-ভিস্তার চালুর ঘোষণা করেছিলেন। ১ ফেব্রুয়ারি তাঁর টানা নবম বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন,

“আমি ভারত-ভিস্তার চালুর প্রস্তাব করছি—একটি বহুভাষিক AI টুল, যা অ্যাগ্রিস্ট্যাক পোর্টাল এবং আইসিএআর-এর কৃষি পদ্ধতির প্যাকেজকে AI ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করবে। এর ফলে কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়বে, কৃষকরা উন্নত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন এবং ঝুঁকি কমবে।”

এই প্রকল্পের জন্য আগামী অর্থবর্ষে ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষকদের কাছে দ্রুত ও সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে পারলে কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা ও আয়ের বৃদ্ধি সম্ভব হতে পারে। ভারত-ভিস্তার সেই লক্ষ্যেই এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *