ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে বড় পদক্ষেপ নিল বাংলাদেশ সরকার। দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ এবং গির্জার যাজকদের জন্য মাসিক সাম্মানিক ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পবিত্র ঈদের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রকল্প চালু করার ঘোষণা করেছে সরকার।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, মসজিদের ইমামরা মাসে ৫০০০ টাকা, মুয়াজ্জিনরা ৩০০০ টাকা এবং খাদেমরা ২০০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। একইভাবে মন্দিরের পুরোহিতদের জন্য ৫০০০ টাকা ও সেবায়েতদের জন্য ৩০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষরা মাসে ৫০০০ টাকা এবং উপাধ্যক্ষরা ৩০০০ টাকা পাবেন। গির্জার যাজকদের জন্যও মাসিক ৫০০০ টাকা এবং সহকারী যাজকদের জন্য ৩০০০ টাকা করে সাম্মানিক ভাতা ধার্য করা হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৪,৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহার এবং ৩৯৬টি গির্জা রয়েছে। ধাপে ধাপে এই সমস্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের এই প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
শুধু মাসিক ভাতা নয়, বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষেও বিশেষ ভাতার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ইদ উল ফিতর ও ইদ উল আজহার সময় অতিরিক্ত ১০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। অন্যদিকে দুর্গাপুজো, বুদ্ধপূর্ণিমা ও বড়দিন উপলক্ষে বিশেষ ভাতা হিসেবে ২০০০ টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মহম্মদ ইসমাইল জবিউল্লাহ জানিয়েছেন, চলতি অর্থবর্ষে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের প্রায় ২৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয় হবে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২০ কোটি টাকার সমান। আগামী ১৪ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। পরদিন অর্থাৎ ১৫ মার্চ থেকেই ইমাম, পুরোহিত ও যাজকদের হাতে পৌঁছে যাবে এই ভাতার অর্থ।
উল্লেখ্য, প্রতিবেশী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা দিয়ে থাকে রাজ্য সরকার। সেই ধাঁচেই এবার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিল বাংলাদেশ সরকার।
