দেশের একাধিক রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গ-সহ চারটি রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোট পরিচালনার জন্য ২৫ লক্ষেরও বেশি কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
গত ১৫ মার্চ দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গ, অসম, কেরল, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরীর ভোটের সূচি ঘোষণা করে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে দু’দফায় ভোটগ্রহণ হবে— ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল। সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ভোটের ফল প্রকাশ করা হবে ৪ মে।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ১৭ কোটিরও বেশি। এত বড় পরিসরে ভোট পরিচালনার জন্য বিপুল সংখ্যক কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। গড় হিসাবে প্রায় প্রতি ৭০ জন ভোটারের জন্য একজন করে কর্মী রাখা হয়েছে, যাতে ভোট প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।
নিযুক্ত কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন প্রায় ১৫ লক্ষ ভোটকর্মী, সাড়ে ৮ লক্ষ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, প্রায় ৪০ হাজার গণনাকর্মী, ২১ হাজার সেক্টর অফিসার এবং ৪৯ হাজার মাইক্রো পর্যবেক্ষক। পাশাপাশি, ভোটগণনার জন্য অতিরিক্ত ১৫ হাজার মাইক্রো অবজ়ার্ভার রাখা হয়েছে।
ভোটারদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে বুথ স্তরের আধিকারিকদের (বিএলও) মাধ্যমে সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এই কাজে প্রায় ২ লক্ষ ১৮ হাজার বিএলও নিয়োজিত রয়েছেন।
এ ছাড়া, মোট ৮৩২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট এবং উপনির্বাচনের ওপর নজরদারির জন্য ১,১১১ জন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। কমিশনের মতে, এই পর্যবেক্ষকেরাই ভোটের সময় তাদের ‘চোখ ও কান’ হিসেবে কাজ করবেন। তাঁদের মধ্যে ৫৫৭ জন সাধারণ পর্যবেক্ষক, ১৮৮ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং ৩৬৬ জন ব্যয়ের হিসাব পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন।
ইতিমধ্যেই অধিকাংশ পর্যবেক্ষক নিজ নিজ দায়িত্বস্থলে পৌঁছে গিয়েছেন এবং কাজ শুরু করেছেন। নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন এবং ভোট সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে পারবেন।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করাই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। ভোটারদের যাতে কোনও ধরনের ভয় বা বাধা ছাড়াই ভোট দিতে পারেন, সেই দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
