আসন্ন অসম বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বড় ধাক্কা খেল কংগ্রেস। ‘আত্মসম্মানের প্রশ্ন’, ভোটের আগে কংগ্রেস ছাড়লেন অসমের প্রাক্তন সভাপতি ভূপেন বরা

আসন্ন অসম বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বড় ধাক্কা খেল কংগ্রেস। রাজ্যে জোট-আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সোমবার দল থেকে ইস্তফা দিলেন অসম প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি ভূপেন বরা। তবে তাঁর ইস্তফা এখনও গ্রহণ করা হয়নি বলে জানা গেছে। দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য বোঝানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

ভূপেন বরা সোমবার সকাল প্রায় ৮টা নাগাদ দলীয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন,
“এটা আত্মসম্মানের প্রশ্ন। দল যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়ে আমার উদ্বেগের কথা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানিয়েছি। মাজুলিতে আমাদের গাড়ি গেলে যদি দল ঠিক করতে না পারে কে যাবেন, কে যাবেন না—তাহলে দলের ভবিষ্যৎ কী? বিষয়টি আমি স্পষ্ট করে জানিয়েছি।”

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার গৌরব গগৈয়ের নেতৃত্বে মাজুলিতে কংগ্রেসের একটি সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ভূপেন বরা, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা দেবব্রত শইকিয়া এবং সাংসদ রকিবুল হুসেন।

ইস্তফা গ্রহণ করেনি হাইকম্যান্ড

দিল্লির কংগ্রেস সূত্রে খবর, এখনও বরার ইস্তফা গ্রহণ করা হয়নি। বরং তাঁকে দলে ফেরাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। অসমের এআইসিসি দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা জিতেন্দ্র সিং ভূপেন বরা ও গৌরব গগৈয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

এক কংগ্রেস নেতা জানিয়েছেন, “আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব। আমরা চাই না তিনি কংগ্রেস পরিবার ছাড়ুন। রাজনীতিতে অনেক সময় কথাবার্তার পর ইস্তফা প্রত্যাহার হয়।”

দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা ও জোট রাজনীতি

৫৫ বছর বয়সী ভূপেন বরা ১৯৯৪ সাল থেকে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত। ২০০৬ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি বিহপুরিয়া কেন্দ্র থেকে দু’বার বিধায়ক নির্বাচিত হন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের পরাজয়ের পর তাঁকে অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি করা হয়।

দলের সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকাকালীন বরার অন্যতম লক্ষ্য ছিল বিজেপি-বিরোধী আঞ্চলিক জোট গড়ে তোলা। রাইজর দল, অসম জাতীয় পরিষদ (AJP), সিপিআই, সিপিআই(এম) এবং অল পার্টি হিল লিডার্স কনফারেন্সের মতো দলগুলিকে নিয়ে বৃহত্তর জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই জোট কিছুটা সাফল্য পেলেও, উপনির্বাচনে আসন সমঝোতা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। জোটসঙ্গীদের অভিযোগ ছিল, কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আসন ভাগাভাগিতে নমনীয় নয়।

বর্তমানে বিধানসভা নির্বাচনের আগে জোট আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার জন্য বরাকেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর ইস্তফা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের মুখে কংগ্রেসের এই অস্থিরতা রাজ্যের বিরোধী রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার, আলোচনার মাধ্যমে ভূপেন বরাকে দলে ফেরাতে পারে কি না কংগ্রেস নেতৃত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *