বিধানসভা নির্বাচনের আগে বীরভূমের রাজনৈতিক মঞ্চে ফের চড়ছে উত্তাপ। তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল ওরফে ‘কেষ্ট’ ভোটের প্রচারে নামতেই আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ালেন বিজেপির বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, ২০২৬ সালের নির্বাচনে বীরভূম জেলার ১১টি বিধানসভা আসনেই জয় ছিনিয়ে আনবে তৃণমূল।
প্রচারে নেমে অনুব্রত মণ্ডল অভিযোগ করেন, বিজেপি তাঁকে দলে টানার চেষ্টা করেছিল। সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। এমনকি তাঁর মেয়ে সুকন্যা মণ্ডলকেও জেলে থাকতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অনুব্রতর কথায়, “আমি দলকে ভালোবাসি। সিপিএমকে চ্যালেঞ্জ করে জেলা থেকে তাড়িয়েছি, কংগ্রেসের অস্তিত্ব মুছে দিয়েছি। আগামী দিনে বিজেপিরও একই হাল হবে।”
তিনি আরও বলেন, বিজেপি বীরভূমে সংগঠন ভাঙার জন্য জাল বিস্তার করেছিল। কিন্তু তাঁকে দীর্ঘদিন জেলে রাখার পরও জেলার তৃণমূল সংগঠনে কোনও প্রভাব পড়েনি। তাঁর দাবি, লোকসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলই তার প্রমাণ।
উল্লেখ্য, অনুব্রত মণ্ডলকে প্রায় আড়াই বছর আসানসোল ও তিহাড় জেলে থাকতে হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনেই তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন।
তবে নিজের দলের কিছু ভুলও স্বীকার করেছেন এই তৃণমূল নেতা। তিনি বলেন, “২০২১ সালে আমাদের নিজেদের ভুলেই দুবরাজপুর আসন হাতছাড়া হয়েছিল।”
তবুও আসন্ন নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে তিনি আত্মবিশ্বাসী। তাঁর দাবি, “২০২৬ সালে ১১টি বিধানসভা আসনেই জিতবে তৃণমূল। আমি নিজে প্রতিটি কেন্দ্রে প্রচারে থাকব।”
এছাড়াও তিনি হাসন বিধানসভা কেন্দ্রে দলীয় প্রার্থী কাজল শেখের হয়ে সক্রিয়ভাবে প্রচারে অংশ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
ভোটারদের উদ্দেশে বার্তা দিতে গিয়ে অনুব্রত বলেন, “মানুষ কি আবার অন্ধকার নামাতে চাইবে? ৩৪ বছর অন্ধকার দেখেছে। এবারও জোড়াফুলেই আস্থা রাখবে মানুষ।”
সব মিলিয়ে, ভোট ঘোষণার পর থেকেই বীরভূমে রাজনৈতিক লড়াই ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। অনুব্রত মণ্ডলের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান যে আগামী দিনে নির্বাচনী প্রচারকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে, তা বলাই যায়।

