গত সপ্তাহের পর চার দিনের মাথায় ফের ছাত্র-মৃত্যুর ঘটনা ঘটল আইআইটি খড়্গপুর ক্যাম্পাসে । সোমবার রাতে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হল দ্বিতীয় বর্ষের এক পড়ুয়ার। যদিও কর্তৃপক্ষের দাবি, গলায় ওষুধ আটকেই এই মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছে ছাত্রটির। প্রসঙ্গত, গত শুক্রবারই এক পড়ুয়ার মৃতদেহ উদ্ধার হয় সেখানকার হস্টেল থেকে। তার চারদিনের মধ্যে আবারও এক পড়ুয়ার মৃত্যু! স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে একাধিক মহলে।জানা গিয়েছে, মৃত পড়ুয়ার নাম চন্দ্রদ্বীপ পাওয়ার (১৯)। বাড়ি মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়াড়া জেলায়। ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। আইআইটি খড়্গপুর ক্যাম্পাসের নেহেরু হলে থাকতেন।পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার রাতে খাওয়ার পরে চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ খাচ্ছিলেন চন্দ্রদ্বীপ। সেই সময় আচমকাই তাঁর শ্বাসনালীতে ওষুধ আটকে যায় বলে অনুমান। শুরু হয় তীব্র শ্বাসকষ্ট । অবস্থা খারাপ দেখে তাঁকে তড়িঘড়ি নিয়ে যাওয়া হয় আইআইটি ক্যাম্পাসের বিসি রায় হাসপাতালে। তখনই তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়, সিপিআরও দেওয়া হয়, কিন্তু শেষরক্ষা করা যায়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই পড়ুয়াকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।মৃত ছাত্রের পরিবারের কাছে খবর পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। রিপোর্ট এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে আইআইটি খড়গপুর ক্যাম্পাসে। গত শুক্রবারই মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ঋতম মণ্ডলের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল। কী কারণে মৃত্যু তা এখনও স্পষ্ট জানা যায়নি। চারদিনের মধ্যেই আবারও এক পড়ুয়ার মৃত্যু। এই নিয়ে চলতি বছরে আইআইটি খড়্গপুরে ছাত্র মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫।কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে অভিভাবক এবং পড়ুয়াদের মধ্যে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
