উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, সুন্দরবন : জীবনের ঝুঁকি নিয়েই বিকল্প কর্মসংস্থানে সুন্দরবনের বাঘের থাবায় স্তব্ধ এক সংসার।আবার বাঘের হানায় প্রাণ গেল সুন্দরবনের এক মৎস্যজীবীর। মৃতের নাম রামপদ বর্মন (৪৫)। তিনি গোসাবার ছোট মোল্লাখালি কালিদাসপুর এলাকার বাসিন্দা। মঙ্গলবার সকালে সঙ্গীদের সঙ্গে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের আক্রমণের শিকার হন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈধ অনুমতি নিয়েই এদিন জঙ্গলে প্রবেশ করেছিলেন রামপদ ও তাঁর সঙ্গীরা।সুন্দরবনের গভীর অরণ্যে কাঁকড়া ধরার সময় আচমকাই পিছন থেকে একটি বাঘ ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁর উপর। আকস্মিক হামলায় গুরুতর জখম হন রামপদ। সঙ্গে থাকা অন্য মৎস্যজীবীরা প্রাণপণ লড়াই করে বাঘটিকে তাড়িয়ে দেন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে নৌকায় তুলেআনেন। দ্রুত গ্রামে ফিরিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সুন্দরবন কোস্টাল থানার পুলিশ।দেহ উদ্ধার করে বুধবার ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পারমিট নিয়েই তাঁরা কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলেন।আর এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে জেলার মুখ্য বন আধিকারিক (ডি এফ ও) নিশা গোস্বামী বলেন, প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে,বৈধ অনুমতি নিয়েই জঙ্গলে প্রবেশ করেছিলেন মৃত ব্যক্তি। বন দফতরের নিয়ম মেনেই তাঁরা কাঁকড়া সংগ্রহ করছিলেন।হঠাৎ বাঘের আক্রমণে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরিবারকে সরকারি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি জঙ্গলে প্রবেশের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বনের জন্য মৎস্যজীবীদের বারবার সচেতন করা হচ্ছে।উল্লেখ্য, সুন্দরবন এলাকায় বাঘের আক্রমণের ঘটনা নতুন নয়। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন বহু মানুষ গভীর জঙ্গলে প্রবেশ করেন।বন দফতরের পক্ষ থেকে সুরক্ষা বিধি মেনে চলার নির্দেশ থাকলে ও প্রাকৃতিক পরিবেশে ঝুঁকি থেকেই যায়।মৃত রামপদ বর্মনের পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী ও দুই সন্তান। উপার্জনক্ষম ব্যক্তির আকস্মিক মৃত্যুতে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে পরিবারটি। মৃতদেহ বাড়িতে পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা।গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।আর এই সব মৎস্যজীবিদের অধিকার ফিরিয়ে আনতে তাদের পাশে থেকে কাজ করে চলেছে এপিডিআর নামে একটি মানবাধিকার সংগঠন।আর সেই সংগঠনের দ:২৪ পরগনা জেলার সহ সম্পাদক মিঠুন মন্ডলবুধবার বলেন,সুন্দরবনে বাঘের আক্রমনে ক্রমাগত ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সুন্দরবনের মৎস্যজীবিরা।সরকারকে দ্রুত মৃত মৎস্যজীবির পরিবারের হাতে সরকারি ক্ষতি পূরনের টাকা তুলে দিতে হবে।ছেলে মেয়েদের পড়াশোনার দায়িত্ব নিতে হবে।
সুন্দরবনে ফের বাঘের কামড়ে মৃত মৎস্যজীবি, সরকারি ক্ষতিপূরনের দাবি এপিডিআরের
