দেশে নাগরিকদের বেশি সন্তান নেওয়ার প্রসঙ্গ নিয়ে চর্চা যখন তুঙ্গে, তখনই জন্মহার বাড়াতে বড় আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করল অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সন্তান নিলে পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে নগদ সাহায্য দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নায়ডু।
বৃহস্পতিবার অন্ধ্রপ্রদেশ বিধানসভায় নতুন জনসংখ্যা নীতির খসড়া (Andhra Pradesh Population Draft Policy) পেশ করেন নায়ডু। তিনি জানান, মার্চের শেষ নাগাদ নীতি চূড়ান্ত হবে এবং ১ এপ্রিল থেকেই তা কার্যকর করা হবে।
কী কী সুবিধা মিলবে
সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়েছে—
- দ্বিতীয় ও তৃতীয় সন্তান জন্মের সময় ২৫,০০০ টাকা করে নগদ সহায়তা
- তৃতীয় সন্তানের জন্য ৫ বছর পর্যন্ত প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা
- ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ
- IVF চিকিৎসায় ভর্তুকি
- ১২ মাস পর্যন্ত পেরেন্টাল লিভ
- বাবাদের জন্য ২ মাসের পিতৃত্বকালীন ছুটি
- কর্মজীবী মহিলাদের জন্য হস্টেল, পিঙ্ক টয়লেট ও চাইল্ড কেয়ার সেন্টার
- মহিলাদের নিরাপত্তায় চালু হবে She Cab পরিষেবা
মাতৃত্ব পরিষেবায় জোর
জন্মহার বাড়াতে রাজ্যে মাতৃত্ব ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’ গড়ে তোলা হবে। সেখানে ভর্তুকিপ্রাপ্ত IVF পরিষেবা দেওয়া হবে। পাশাপাশি সিজার নয়, স্বাভাবিক প্রসবে উৎসাহ দেওয়া হবে। শিশুদের যত্ন ও প্রশিক্ষণের জন্য বিশেষ ক্লিনিক ও চাইল্ড কেয়ার প্রশিক্ষকও থাকবেন।
কেন এই সিদ্ধান্ত
চন্দ্রবাবু নায়ডু জানিয়েছেন, অন্ধ্রপ্রদেশে জন্মের হার ৩.০ থেকে কমে বর্তমানে ১.৫-এ নেমে এসেছে। জনসংখ্যার ভারসাম্য বজায় রাখতে এই হার ২.১ হওয়া প্রয়োজন। জন্মহার কমে গেলে ভবিষ্যতে কর্মীর অভাব দেখা দিতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক সঙ্কট তৈরি হতে পারে—যেমনটি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইতালিতে দেখা গেছে।
ভাগবতের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক
সম্প্রতি আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত নাগরিকদের কমপক্ষে তিনটি সন্তান নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এমনকি ১৯ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে বিয়ে হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর সেই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলার মধ্যেই অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের এই নতুন জনসংখ্যা নীতি সামনে এল।
