২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটকে পাখির চোখ করে এখন থেকেই কোমর বেঁধে নামল পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি। সম্প্রতি বাংলায় এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিক সভা ও বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে গিয়েছেন—এপ্রিলের মধ্যেই সরকার গঠনের লক্ষ্য স্থির করে এগোতে হবে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর হাতে সময় থাকবে খুবই কম। সেই টার্গেট মাথায় রেখেই মঙ্গলবার বিধানসভাতেই দলের বর্তমান বিধায়কদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
মঙ্গলবার বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারীর কক্ষে বিজেপির রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বর্তমান বিজেপি বিধায়করা। পাশাপাশি এদিনের আলোচনায় অংশ নেন রাজ্য বিজেপির ভারপ্রাপ্ত নেতা ও ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব।
বৈঠক শেষে বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল জানান,
খুব কম সময়ের মধ্যে কীভাবে সংগঠন ও প্রচারকে আরও গতিশীল করা যায়, হাইকমান্ড কী চাইছে—তা নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে এদিন টিকিট বণ্টন নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি বলেই স্পষ্ট করেন তিনি। অগ্নিমিত্রার কথায়, “বর্তমান বিধায়কদের মধ্যে কেউ টিকিট পেতে পারেন, কেউ নাও পেতে পারেন। নতুন মুখও আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে যাঁরা টিকিট পাবেন না, তাঁদের দায়িত্ব হবে দলীয় প্রার্থীদের পাশে থেকে কাজ করা।”

বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকের মূল ফোকাস ছিল ভোটের রণকৌশল। কোন কোন ইস্যুকে সামনে রেখে ভোটে নামা হবে, সংগঠন কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায় এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে রাজ্য বিজেপির কী ধরনের সহযোগিতা প্রত্যাশা—সব বিষয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিপ্লব দেব নিজে রাজ্য নেতৃত্বের কাছ থেকে সাংগঠনিক প্রয়োজন ও প্রত্যাশার কথা জানতে চান।
বৈঠক শেষে আত্মবিশ্বাসী সুরে বিপ্লব দেব বলেন,

“আমার কুণ্ডলীতে হার লেখা নেই।”
উল্লেখ্য, ভোটমুখী বাংলায় এসে কয়েকদিন আগেই অমিত শাহ ঘোষণা করেন, ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসবে বিজেপিই। শুধু বাংলাতেই নয়, তামিলনাড়ুতেও বিজেপি সরকার গড়বে বলে দাবি করেন তিনি। ২০২৪ সালের পর বিজেপি ও এনডিএ জোটের একাধিক রাজ্যে জয় তুলে ধরে শাহ বলেন, “হরিয়ানায় তৃতীয়বার জয় এসেছে, এবার তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গের পালা।”
দুর্নীতির ইস্যুতে DMK-কেও আক্রমণ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন,
“আমি বাংলার মানুষকে আশ্বস্ত করছি—মোদির সরকার তৈরি হলেই বাংলার গৌরবের পুনরুদ্ধার হবে।”
২০২৬-এর লড়াইয়ের আগে বিজেপির এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
