ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Assembly Election) সামনে রেখে প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছে রাজ্যের সমস্ত রাজনৈতিক দল। শাসক তৃণমূলের পাশাপাশি বিরোধী শিবির বিজেপিও সভা-মিছিল ও সাংগঠনিক কর্মসূচি জোরদার করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ঘন ঘন বঙ্গ সফর ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।
সূত্রের খবর, চলতি মাসেই ফের বাংলায় আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তাতেই প্রশ্ন উঠছে—তবে কি রাজ্য বিজেপির ‘বঙ্গ ব্রিগেড’-এর উপর আস্থা হারাচ্ছে শীর্ষ নেতৃত্ব? নাকি ছাব্বিশের লড়াইকে সামনে রেখে আরও সক্রিয়ভাবে রণকৌশল সাজাতে চাইছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব?

উল্লেখ্য, গত ৩০ জানুয়ারি কলকাতায় এসেছিলেন অমিত শাহ। সেই সফরে রাতেই হোটেলে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। পরদিন বারাকপুরে কর্মী সম্মেলনে যোগ দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার কয়েক দিনের মধ্যেই ফের তাঁর বঙ্গ সফরের খবর সামনে এসেছে।
দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দু’দিনের জন্য বাংলায় আসতে পারেন অমিত শাহ। যদিও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা চলার কারণে ওই সময়ে কোনও প্রকাশ্য সভা করার সম্ভাবনা কম। পরিবর্তে রাজ্যের শীর্ষ বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল চূড়ান্ত করতেই এই সফর—এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বছরের শুরু থেকেই ভোটের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত শাসক ও বিরোধী—দুই শিবিরই। প্রায় প্রতিদিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জনসভা, পদযাত্রা ও জনসংযোগ কর্মসূচি চলছে। তৃণমূলের হাত থেকে বাংলার ক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করতে চাইছে বিজেপি।
সেই ইঙ্গিত মিলেছে দিল্লিতে সম্প্রতি হওয়া এক বৈঠকেও। গতকাল বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা (Nitin Nabin/Nadda) দিল্লিতে বাংলার বিজেপি সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তাঁর স্পষ্ট বার্তা—ভোটমুখী বাংলায় শুধু মঞ্চে বক্তৃতা করলেই চলবে না, দলীয় নেতা-কর্মীদের নামতে হবে রাস্তায়, পৌঁছতে হবে সাধারণ মানুষের কাছে।
এর পরপরই অমিত শাহের ফের বঙ্গ সফরের খবর সামনে আসায় তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ছাব্বিশের আগে বিজেপির সংগঠন ও কৌশলে কোনও বড় বদল আসছে কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
