আলিপুরদুয়ার: অবশেষে ঝিল সংস্কারের উদ্যোগ নিল আলিপুরদুয়ার পুরসভা। প্রাথমিকভাবে ১৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের দুটি ঝিল সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের কাজ শুরু হবে। এই প্রকল্পের জন্য মোট ১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
পুরসভার চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ কর জানিয়েছেন, পুরসভার নিজস্ব তহবিল এবং পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের আর্থিক সহায়তায় ঝিল দু’টি নতুন করে সাজানো হবে। ভবিষ্যতে সেখানে বোটিং চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে তিনি জানান।
তবে এই উদ্যোগ ঘিরে বিতর্কও মাথাচাড়া দিচ্ছে। পুরসভা সূত্রে দাবি, প্রায় দেড় দশক আগে আলিপুরদুয়ার শহরে প্রায় ২০টি ঝিল ছিল। বর্তমানে টিকে আছে মাত্র ৬টি। অভিযোগ, একাধিক ঝিল দখল হয়ে সেখানে নার্সিংহোম, বাড়ি এমনকি গ্যারাজ তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, ঝিল দখলের ঘটনায় পুর প্রশাসনের একাংশের নামও জড়িয়েছে।
এই প্রেক্ষিতে শহরের একাংশের বাসিন্দাদের প্রশ্ন, দখলমুক্তির স্পষ্ট রূপরেখা ছাড়া শুধু সংস্কারের ঘোষণা কি যথেষ্ট? যদিও চেয়ারম্যানের বক্তব্য, নতুন করে কোনও ঝিল দখল হতে দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের একমাত্র বিরোধী কাউন্সিলার শান্তনু দেবনাথ বলেন, ঝিল দখলমুক্ত করতে গঠিত কমিটি কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল। কোনও বাস্তব পদক্ষেপ না হওয়ায় তিনি কমিটি থেকে ইস্তফা দেন। তাঁর দাবি, সংস্কারের পাশাপাশি দখলমুক্তির কাজও দ্রুত শুরু করতে হবে।
আলিপুরদুয়ার জলাশয় বাঁচাও কমিটির কর্ণধার ল্যারি বোসের অভিযোগ, অতীতেও একাধিকবার ঝিল নিয়ে সমীক্ষা ও সাইনবোর্ড লাগানো হলেও বাস্তবে কোনও ফল মেলেনি। তাঁর দাবি, দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সংস্কারের উদ্যোগ শুধু “চোখে ধুলো দেওয়ার” সামিল হবে।
ঝিল সংস্কারের কাজ কবে থেকে শুরু হবে এবং দখল ইস্যুতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর আলিপুরদুয়ারবাসীর।
