আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা: ইচ্ছাকৃতভাবে জ্বালানি সুইচ বন্ধ? ইতালীয় পত্রিকার দাবিতে চাঞ্চল্য

আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার যে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় ২০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, তা নিছক যান্ত্রিক ত্রুটি নয়—এমনই বিস্ফোরক দাবি করল ইতালির প্রভাবশালী দৈনিক ‘কোরিয়ের ডেলা সেরা’। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাইলট ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানের জ্বালানি সুইচ বন্ধ করে দেওয়াতেই দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। যদিও ভারতের উড়ান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ এখনও পর্যন্ত এই দুর্ঘটনা নিয়ে চূড়ান্ত সরকারি রিপোর্ট প্রকাশ করেনি। ফলে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে নারাজ বিশেষজ্ঞ মহল।

ইতালীয় সংবাদমাধ্যমটি দু’টি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ভারতীয় তদন্তকারীদের একাংশের বিশ্বাস—বিমানে কোনও বড় যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না। বরং পাইলটের পদক্ষেপের ফলেই ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারিয়ে ভেঙে পড়ে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পাইলট-ইন-কমান্ড ক্যাপ্টেন সুমিত সাভারওয়ালকে প্রাথমিকভাবে দায়ী করা হয়েছে। তবে এই সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন শীঘ্রই প্রকাশ করবে কোরিয়ের ডেলা সেরা

শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পাইলটদের মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের সুপারিশও করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

উল্লেখ্য, গত বছর ১২ জুন আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ বিমানটি উড্ডয়নের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মেঘানিনগরের বিজে মেডিক্যাল কলেজের ক্যান্টিনের উপর ভেঙে পড়ে। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ২০০-রও বেশি যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দা।

এর আগে এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB) যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল, তাতে বলা হয়—উড্ডয়নের ঠিক আগের মুহূর্তে বিমানের দুই ইঞ্জিনই ‘ফুয়েল কাটঅফ’ মোডে চলে যায়। ফলে ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে। ককপিট ভয়েস রেকর্ডার অনুযায়ী, এক পাইলট অপরজনকে প্রশ্ন করেছিলেন, “ইঞ্জিন বন্ধ করলে কেন?” জবাবে অন্য পাইলট বলেন, “আমি কিছু বন্ধ করিনি।”

তবে পাইলটদের সংগঠনের দাবি, প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট অসম্পূর্ণ এবং বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সেখানে উল্লেখ করা হয়নি। জ্বালানি সুইচের সম্ভাব্য ত্রুটি বা যান্ত্রিক সমস্যার দিকটি উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের। নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে আদালতের তত্ত্বাবধানে পুনরায় তদন্তের দাবিও তুলেছেন তারা।

চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্তই একমাত্র উপায়, যাতে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *