আমের ফলন বাঁচাতে ‘পাঠ’ দিলেন নিমপীঠ রামকৃষ্ণ আশ্রমের কৃষি বিশেষজ্ঞরা

উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়নগর : আমের মুকুলে ছেয়ে গেছে গোটা এলাকা।আর এই মুকুল থেকে ইতিমধ্যে আমের গুটি এসেছে।আর এই ফলন বাঁচাতে এবার কৃষকদের করনীয় কি তা তুলে ধরলেন নিমপীঠ রামকৃষ্ণ আশ্রমের কৃষি বিশেষজ্ঞ ডা: অরিত্র সরকার।আম একটি গ্রীষ্মকালীন ফল।সাধারণত ফেব্রুয়ারি শেষ মার্চ মাসের প্রথম দিকে আম গাছে মুকুল আসাশুরু করে। তবে শুরুতে গাছ ভরে যায় মুকুলে কিন্তু সেই মুকুল বাঁচিয়ে রাখা অনেকটাই কঠিন ব্যাপার হয়ে থাকে। আমরা অনেক সময় ভাবি আমাদের গাছে অনেক মুকুল আসছে কিন্ত তবুও কেন ফুলগুলো ঝরে পরে যাচ্ছে, এই ঝরে পড়ে যাওয়া থেকে কিভাবে রোধ করবে তা জানালেন কৃষি বিশেষজ্ঞ। কিন্তু কিভাবে বাঁচাবে ঝরে যাওয়া মুকুল গুলি।আর এই ঝড়ে পড়ার কারন কি। মূলত আমের ফুলগুলোকে একত্রে আমের মুকুল বলা হয়ে থাকে। আমের মুকুলের মধ্যে হাজার হাজার ফুল থাকে। পুরুষ এবং স্ত্রী ফুল একসাথেই থাকে। এই মুকুল থেকেই আমের গুটি আসা শুরু করে।এই মুকুল থেকে আমের গুঁটি জন্মায়।মূলত আমের ফুলগুলোকে একত্রে আমের মুকুল বলা হয়ে থাকে। আমের মুকুলের মধ্যে হাজার হাজার ফুল থাকে। পুরুষ এবং স্ত্রী ফুল একসাথেই থাকে। এই মুকুল থেকেই আমের গুটি আসা শুরু করে।এই মুকুল থেকে আমের গুঁটি জন্মায়। মুলত হপার পোকার আক্রমণ মুকুল ঝড়ে পড়ার একটি অন্যতম কারন।এর পাশাপাশি প্রাকৃতিক কারণ যেমন বৃষ্টি, ঝড়, বন্যা, শিলা বৃষ্টির জন্য মুকুল ঝড়ে পরে। মাটিতে রসের অভাব হলে ও আমের মুকুল ঝড়ে পরে যায়। কিভাবে বাঁচাবেন,প্রথমত আম বাগান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, আগাছা মুক্ত ও খোলামেলা অবস্থায় রাখতে হবে।মরা ডালপালা ছেঁটে ফেলতে হবে। শীতের পর গরম শুরু হয়।এই সময়টাতে আম গাছের প্রচুর জলের প্রয়োজন পরে। তাই গাছের গোড়াতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পায় তা লক্ষ্য রাখতে হবে। ফুল থেকে যখন ফল মটর দানার মতো হবে তখন একটা স্প্রে করতে হবে হপার পোকা দমনের জন্য। সাধারণত মুকুল আসার আগে হপার পোকার জন্য স্প্রে করতে হয়।হপার পোকার জন্য ডায়াজিনন ৬০ ইসি বা লেবাসিড ৫০ ইসি চা চামচের ৪ চামচ ৮.৫ লিটার জলে মিশিয়ে ১৫ দিন পর পর দুই বার স্প্রে করতে হবে।আমটা যখন গুটি আকার ধারণ করবে তখন ১০-২০ দিন পর পর বোরিক এসিড ৬ গ্রাম/১০ লি. জলে স্প্রে করলে আমের গুটির পরিমাণ বেড়ে যাবে। আম গাছের পাশে মৌমাছি পালন করতে হবে প্রাকৃতিক পরাগায়নের জন্য।এ ছাড়া আম বাগানে বিভিন্ন জাতের আম গাছ লাগানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ফুল গাছ লাগাতে হবে যাতে বিভিন্ন পোকামাকড় পরাগায়নে সহযোগিতা করে।লক্ষ্য রাখতে হবে গাছে যখন ফুল ফুটে যাবে তখন কোনো প্রকার স্প্রে করা যাবে না।আম গাছে মুকুল আসার আগে স্প্রে করা যেমন জরুরি না,তেমনি মুকুল ফোটার পর স্প্রে করার জরুরি নয়।আর এবছর জয়নগর কুলতলি মথুরাপুর সহ একাধিক এলাকায় আমের ফলন ভালো হবার আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *