চাঁদিপুর (ওড়িশা), ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬:ভারত সফলভাবে পরীক্ষা করল মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-৩ (Agni-3)। ওড়িশার চাঁদিপুরে অবস্থিত ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (ITR) থেকে এই উৎক্ষেপণ করা হয়। পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটির সমস্ত অপারেশনাল ও টেকনিক্যাল প্যারামিটার সফলভাবে যাচাই হয়েছে।এই উৎক্ষেপণটি পরিচালিত হয় Strategic Forces Command-এর তত্ত্বাবধানে, যা ভারতের কৌশলগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা ও প্রস্তুতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিবৃতিMinistry of Defence জানিয়েছে,“৬ ফেব্রুয়ারি ওড়িশার চাঁদিপুরে ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ থেকে মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-৩ সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। এই উৎক্ষেপণে সমস্ত অপারেশনাল ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড সফলভাবে যাচাই হয়েছে।”অগ্নি সিরিজে বাড়ল শক্তিDefence Research and Development Organisation (DRDO) তৈরি অগ্নি সিরিজ ভারতের স্থলভিত্তিক কৌশলগত প্রতিরোধ ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ। এই সিরিজে রয়েছে—অগ্নি-১ – পাল্লা প্রায় ৭০০ কিমিঅগ্নি-২ – পাল্লা প্রায় ২,০০০ কিমিঅগ্নি-৩ – পাল্লা প্রায় ৩,০০০ কিমিঅগ্নি-৪ – পাল্লা প্রায় ৪,০০০ কিমিঅগ্নি-৫ – সর্বোচ্চ পাল্লা প্রায় ৫,০০০ কিমিDRDO সূত্রে জানা গেছে, অগ্নি-১ ক্ষেপণাস্ত্রটি ন্যূনতম ২২০ কিমি দূরত্বের লক্ষ্যবস্তুকেও আঘাত হানতে সক্ষম। এর ফলে আগে প্রিথ্বী সিরিজের (১৫০–৩৫০ কিমি) আওতায় থাকা লক্ষ্যবস্তুও কভার করা সম্ভব।কৌশলগত বার্তা ও রপ্তানি আগ্রহস্বল্প পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ অনেক সময় শত্রুপক্ষের ভুল ব্যাখ্যার আশঙ্কা তৈরি করে, যা বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। যদিও ভারতীয় সেনা এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে গ্রহণ করেনি, তবে কয়েকটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ ভারতের কাছ থেকে এটি রপ্তানি করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।অগ্নি ও ব্রহ্মোসে সম্পূর্ণ স্ট্রাইক কভারেজঅগ্নি ক্ষেপণাস্ত্র সিরিজ এবং সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র BrahMos-এর মাধ্যমে ভারত এখন ৩০ কিমি থেকে ৫,০০০ কিমি পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পূর্ণ সক্ষমতা রাখে।ব্রহ্মোস: ৩০–৩০০ কিমিঅগ্নি সিরিজ: ৩০০ কিমির ঊর্ধ্বে থেকে ৫,০০০ কিমিএই সফল পরীক্ষার মাধ্যমে ভারতের কৌশলগত আত্মনির্ভরতা ও ন্যূনতম বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ নীতি আরও এক ধাপ এগোল।
সফলভাবে পরীক্ষা হল অগ্নি-৩, ভারতের কৌশলগত শক্তি আরও মজবুত
