বেণীনন্দন স্ট্রিটে খুনের ঘটনায় পুলিশের জালে অভিযুক্ত

অবশেষে কালীঘাট থানার অন্তর্গত বেণীনন্দন স্ট্রিটে খুনের ঘটনায় পুলিশের জালে অভিযুক্ত৷ গত ১৩ তারিখ ভরদুপুরে কলকাতায় এই খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এলাকা জুড়েই। বেণীনন্দন স্ট্রিটের উপর সোনা-রুপোর দোকানের কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর অভিযোগ উঠেছিল এক যুবকের বিরুদ্ধে। সূত্রের খবর, ওই দুজনের মধ্যে ঝামেলা চলাকালীন সেই অশান্তি থামাতে এলে অভিযুক্ত যুবক তাঁর নিজের কিশোর ছেলেকেও কোপ মারে। দ্রুত তাঁকে চিকিৎসার জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তবে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

জানা গিয়েছে, মৃত যুবক সৌমেন ঘড়া হাওড়ার বাসিন্দা। কালীঘাটের একটি সোনার দোকানে ম্যানেজার হিসাবে কাজ করতেন তিনি। ওই সোনার দোকানে এখন সংস্কারের কাজ চলছে। একটি গাড়ি রাবিশ নিয়ে যাওয়ার সময় বেণীনন্দন স্ট্রিট ধরে হরিশ চ্যাটার্জি রোডে ওঠার আগে স্থানীয় ব্যবসায়ী সন্দীপ আগারওয়ালের দোকানে ধাক্কা মারে। এর ফলে দোকানের একাংশ অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই নিয়ে বচসায় জড়ায় গাড়ির চালক ও ওই ব্যবসায়ী। এরপরেই সোনার দোকান থেকে বেরিয়ে আসেন সৌমেন। ঘটনা দেখে স্থানীয় যুবক অশেষ সরকার ওরফে পিকলু ঘটনাস্থলে এসে হম্বিতম্বি শুরু করেন। এরপর পিকলুর সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন সৌমেন। এর মধ্যেই হঠাৎ ছুরি বার করে সৌমেনের বুকে, পেটে, ঘাড়ে এলোপাথাড়ি কোপ মারতে থাকেন পিকলু। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সৌমেন। পিকলুর ছেলে অঙ্কুর সরকার সেই সময় ঘটনাস্থলে আসে। আশ্চর্যজনকভাবে নিজের ছেলেকেও এদিন কোপাতে থাকেন পিকলু। স্থানীয়রা ছুটে এলে সেখান থেকে পালিয়ে যান অভিযুক্ত। রাস্তার সংলগ্ন সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তের খোঁজ শুরু করে পুলিশ। পিকলুর পালিয়ে যাওয়ার একটি ফুটেজ পুলিশের হাতে আসে এবং তার ফলেই অনেকটাই সহজ হয়ে যায় অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা। তবে পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার সকালে নিজেই থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেছেন অভিযুক্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *