চাষীদের সহায়তায় নিমপীঠে চালু হলো জীবানু সারের পরীক্ষাগার

উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়নগর : কৃষি কাজে কৃষকদের সহায়তায় বহু বছর ধরে কাজ করে চলেছে নিমপীঠ রামকৃষ্ণ আশ্রমের কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র।এবার নিমপীঠ রামকৃষ্ণ আশ্রমের কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে তৈরি হচ্ছে জীবাণু সার অর্থাৎ বায়োফার্টিলাইজার। আমরা দেখেছি বর্তমানে বিভিন্ন চাষের ক্ষেত্রে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কথা মাথায় আসে প্রথমে। কারণ চাষিরা রাসায়নিক সার ছাড়াই সেভাবে চাষবাস করতেই পারে না।কারণ চাষীদের মধ্যে একটি ধারণা হয়ে গেছে যে রাসায়নিক সার ছাড়া চাষ হবে না। কিন্তু আসল ব্যাপার হল গাছ তার প্রকৃত খাবার মাটি থেকেই নেয়। কারণ গাছ তার নিজের খাবার প্রাকৃতিক উপায়ে বাতাস ও মাটি থেকে যে খনিজ আছে সেগুলি পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন জীবাণু রয়েছে এই জীবনগুলোকে বিজ্ঞানীরা মাটি থেকে সংগ্রহ করে এরপর গবেষণা কেন্দ্রে তৈরি করে আবারো চাষীদের মধ্যে পৌঁছে দিচ্ছে যার নাম হলো জীবানু সার বা বায়োফার্টিলাইজার। অর্থাৎ এই বায়োফার্টিলাইজার হলো এক ধরনের জীবাণু। যে জীবাণু মাটিতে ফিরে গিয়ে প্রকৃতি যে খাবারগুলি রয়েছে তা আবারও গাছের কাছে পৌঁছে দেওয়া। নিমপীঠ রামকৃষ্ণ আশ্রমের কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের কৃষি বিশেষজ্ঞ ড: প্রবীর গরাই বলেন,এই বায়ো ফার্টিলাইজার বিভিন্ন ধরনের হতে পারে যেমন রাইজোডিয়াম যারা ডাল জাতীয় চাষের ক্ষেত্রে বা সরষে চাষে শিকড়ে এক ধরনের গুটি তৈরি করে এবং সেখানে তারা বসবাস করে গাছ থেকে তারা শর্করা জাতীয় খাবার নেয় এবং বাতাস থেকে নাইট্রোজেন আবদ্ধ রেখে বিভিন্ন প্রোটিন তৈরি করে গাছকে সরবরাহ করে। অর্থাৎ যারা রাইজডিয়াম দিয়ে যারা এই ধরনের ডাল জাতীয় চাষ করে কৃষকদের ক্ষেত্রে রাসায়নিক সার ব্যবহার করে তারা অনেকটাই কমাতে পারবে। ঠিক সেইরকম ভাবে জিন সলিউশনব্যাকটেরিয়া পটাশিয়াম ব্যাকটেরিয়া সিলিকন ব্যাকটেরিয়া এই ধরনের বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া বায়ো ফার্টিলাইজার আছে।নিমপীঠ কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে বায়োফার্টিলাইজার কেন্দ্রের গবেষণাগার শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রীয় কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের যোজনার অন্তর্গত একটি প্রকল্পের মাধ্যমে যার লক্ষ্য বছরে প্রায় পঞ্চাশ হাজার লিটার। বর্তমানে নিমপীঠ কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের গবেষণা কেন্দ্র থেকে বছরে প্রায় ১০ থেকে ১৫ লিটার তৈরি হচ্ছে জীবাণু সার। এই ধরনের জীবাণু সার যদি চাষিরা ব্যবহার করে তাহলে তাদের যে রাসায়নিক সারের উপর নির্ভরতা তা থেকে তারা ৩০% বেশি রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে দিতে পারবে। তাতে তাদের চাষের অনেকটাই খরচ কমে যাবে তার পাশাপাশি প্রকৃতিতে যে রাসায়নিক সারের ক্ষতি তা অনেকটাই কমে যাবে।এক কথায় বিষ মুক্ত ফসল পাবো আমরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *