ময়নাগুড়িতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: বিজেপি-কমিশনকে একহাত নিলেন, চা-আলু চাষিদের পাশে থাকার আশ্বাস

বুধবার ময়নাগুড়িতে জনসংযোগ সভায় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের দিকে তোপ দেন। এসআইআর এবং সাপ্লিমেন্টারি তালিকার…

6

বুধবার ময়নাগুড়িতে জনসংযোগ সভায় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের দিকে তোপ দেন। এসআইআর এবং সাপ্লিমেন্টারি তালিকার মাধ্যমে ভোটাধিকারের ক্ষতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। একই সঙ্গে চা-শ্রমিক এবং আলুচাষিদের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন।

ময়না‌গুড়িতে তৃণমূল প্রার্থী রামমোহন রায়ের সমর্থনে প্রচারকালে মমতা বলেন, “বিজেপি শুধু বিজ্ঞাপনে থাকে। ওরা মিথ্যা বলে, মানুষকে লাইনে দাঁড় করায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করে। আমরা পরিষেবা দিচ্ছি। ভোটার অধিকার কেড়ে নেওয়া চলবে না। আমাদের মা-বোনেরা রক্ষা করবেন।”

বিজেপি-স্ট্যাম্প নিয়ে তৃণমূল নেত্রী বলেন, “নির্বাচন কমিশনের নোটিফিকেশনে বিজেপির চিহ্ন দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির পতাকা নিয়ে যাচ্ছে—লজ্জা লাগে না তাদের?” পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সব জিনিসের দাম বেড়েছে, কিন্তু আমি চেষ্টা করছি মানুষের পাশে থাকার। বিজেপি পার্টি ‘ভ্যানিশ পার্টি’।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আলুচাষি ও চা-শ্রমিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, “শস্যবিমা আছে, ক্ষতিপূরণ দেব। আমরা প্রতিশ্রুতি দিই না, করি। চা-বাগান ও চা-কারখানার কাজ চালু রাখতে তৃণমূলকে ভোট দিন।” মেয়েদের জন্য ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ কার্যক্রমও চলবে বলেও জানান তিনি।

উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের কথাও তিনি তুলে ধরেন। ময়নাগুড়িতে স্কাইওয়াক, নতুন হাসপাতাল, পলিটেকনিক এবং ১৬৩ কোটি টাকা খরচে জলপ্রকল্পের কাজ উল্লেখ করে বলেন, “ঘরে ঘরে জল পৌঁছে দেব। চ্যাংরাবান্দা থেকে জোড়পুখরি ১৪ কিমি রাস্তা মানোন্নয়ন হয়েছে।”

এসআইআর নিয়ে সরব হয়ে মমতা বলেন, “মহিলাদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। নাগরিকত্ব প্রমাণের নামে ভয় সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমরা এই হিংস্র নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়াব।”

কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “আমি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সম্মান করি, কিন্তু জনগণের শক্তিই আসল শক্তি। ভোটের সময় কেউ যদি বিজেপির পোলিং এজেন্ট হয়ে যায়, আমাদের মা-বোনেরা দেখবেন। আমরা হস্তক্ষেপ করব না।”

প্রার্থীদের সাবধানবাণী দিয়ে তিনি তুলেছেন অসম প্রসঙ্গ, বলেন, “প্রত্যেক প্রার্থী আইনজীবী নিয়ে যাবে, সব কাগজ ভালো করে দেখবে।”

বিজেপি-কে ‘অ্যান্টি বেঙ্গল’ আখ্যায়িত করে মমতা বলেন, “১-২-৩-৪—গণনা শেষে বিজেপি হেরবে, তৃণমূল জিতবে। কে কী খাবে, মেয়েরা কী পরবে, তা ওরা ঠিক করবে না। আমাদের গাছ-অরণ্য ও মানুষের অধিকার রক্ষা করতে হবে।”