ছাব্বিশের নির্বাচন: জঙ্গলমহলেই কাঁটার লড়াই, বিজেপি-মমতা দ্বৈরথ

২৬তম বিধানসভা নির্বাচন এবার আর একতরফা হবে না, তা প্রায় নিশ্চিত। উত্তরবঙ্গ পার হয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ক্ষমতা বৃদ্ধির চেষ্টা…

4

২৬তম বিধানসভা নির্বাচন এবার আর একতরফা হবে না, তা প্রায় নিশ্চিত। উত্তরবঙ্গ পার হয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ক্ষমতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছে বিজেপি। অন্যদিকে, হাল ছাড়ার মানুষ নন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে রাজ্যের রাজনীতিতে এবারের লড়াইকে কাঁটার টক্কর হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই লড়াইতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে জঙ্গলমহল। বাংলার এই অঞ্চলে বিজেপির প্রভাব রয়েছে, তবে ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে পারফরম্যান্স কিছুটা কমে যায়। এবারের ভোটে তাই বিজেপি পদ্ম পুনর্দখল করার লড়াই চালাচ্ছে।

জঙ্গলমহল পশ্চিমবঙ্গের চারটি জেলা — পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম — এর ২১টি ব্লক নিয়ে গঠিত। এক সময় এটি বামপন্থী এবং মাওবাদী প্রভাবের কেন্দ্র ছিল। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর এ অঞ্চল তৃণমূলের দখলে আসে।

২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটে জঙ্গলমহলে প্রথম পদ্ম দেখা দেয়। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৪২টি আসনের মধ্যে ১৮টি বিজেপি জিতেছিল। এরপর ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে ৪০টি আসনের মধ্যে ১৬টি আসন দখল করে। তবে ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটে বিজেপি দুর্বল ফলাফল দেখায় এবং ২০২৪ সালের লোকসভাতেও সেই ধারাই বজায় থাকে। তাই এবার শুভেন্দু অধিকারী ও দলের জন্য জঙ্গলমহল জয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

অপরদিকে, ২০১১ সালের আগে এই অঞ্চলে মাওবাদী প্রভাব তীব্র ছিল। মমতা ব্যানার্জী ক্ষমতায় আসার পর কঠোর ব্যবস্থা নেন এবং কিষেনজীর মতো মাওবাদী নেতারা সংঘর্ষে নিহত হন। এরপর সড়ক, জনজীবন ও জীবিকার উন্নয়নের জন্য তৃণমূলের সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়, যা স্থানীয়দের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনে।

জঙ্গলমহলে ভোটের অঙ্কে দেখা যায়, এখানে প্রায় ৬–৮% আদিবাসী এবং ৩০% কুর্মি সম্প্রদায় বাস করে। তাই বিজেপি আদিবাসী ও কুর্মি উভয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বিশেষ পরিকল্পনা করেছে। সম্প্রতি দুর্গাপুরে একটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে জঙ্গলমহল জয়ের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করা হয়েছে। জল সংকট, অবৈধ জমি দখল, ভুয়ো SC/ST সার্টিফিকেট, স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ এবং চাকরির ঘাটতি—এসব বিষয় তুলে ধরে আদিবাসী ও কুর্মি ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এবারের জঙ্গলমহল লড়াই একেবারে কাঁটায় কাঁটায় হবে। বিজেপি পদ্ম পুনর্দখল করতে পারে কি না, তা দেখার বিষয়। অন্যদিকে তৃণমূলের স্থানীয় জনপ্রিয়তা ও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপও বড় ভূমিকা রাখবে। ফলে এই ৪০টি আসনের লড়াই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ তৈরি করবে।