বিধানসভা নির্বাচনের আগে আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর হতেই রাজ্য জুড়ে নজরদারি অনেকটাই বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর তার ফলও মিলছে হাতে-নাতে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রায় ১৮১ কোটি ৩১ লক্ষ টাকার মদ, মাদক ও সোনা-সহ বিভিন্ন সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর জানিয়েছে, বেআইনি প্রচার রুখতেও জোরদার অভিযান চলছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৩ লক্ষ ৫৮ হাজারেরও বেশি পোস্টার, ব্যানার ও দেওয়াল লিখন সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিম বর্ধমান এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় এই অভিযান বেশি হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজ্য জুড়ে ১,৮৭৯টি ফ্লাইং স্কোয়াড এবং ২,২১৩টি স্ট্যাটিক নজরদারি দল মোতায়েন করা হয়েছে। এই দলগুলি নিয়মিত তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি অভিযোগ পেলেই দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে কমিশন। এখনও পর্যন্ত ৬৭টি বেআইনি অস্ত্র, ১৬টি কার্তুজ এবং ৩৩টি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে—৫২ হাজারের বেশি অস্ত্রের মধ্যে প্রায় ২৯ হাজার ইতিমধ্যেই জমা পড়েছে।
উল্লেখ্য, রাজ্যের ২৯৪টি আসনে দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে—২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল। ফল ঘোষণা নির্ধারিত ৪ মে। নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ রাখতে কমিশন সবরকম ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারও স্পষ্ট করেছেন, আইন মেনেই নির্বাচন হবে এবং অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে কোনও রকম শৈথিল্য রাখা হবে না।



