উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, রায়দীঘি : সুন্দরবনকে রক্ষা করতে আরো বেশি বেশি করে ম্যানগ্রোভ লাগাতে হবে। সেই ম্যানগ্রোভই পারে সুন্দরবনকে রক্ষা করতে।আর এবার সুন্দরবনকে বাঁচাতে সুন্দরবনে তৈরি হলো ম্যানগ্রোভ গবেষণা কেন্দ্র।একটি গাছ, একটি প্রাণ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখেই রায়দিঘির সবুজ সংঘের উদ্যোগে এসবিআই ফাউন্ডেশনের আর্থিক সাহায্যে সোমবার বিকালে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সুন্দরবনের মথুরাপুর ২নং ব্লকের নন্দকুমারপুর গ্রামপঞ্চায়েতের মহব্বত নগর এলাকার বোলের বাজার ব্রিজ সংলগ্ন মৃদঙ্গভাঙা নদীর চরে ম্যানগ্রোভ রিসোর্স হাবের উদ্বোধন করা হলো। যার নাম দেওয়া হয়েছে আরণ্যক।এদিন ফিতে কেটে এই হাবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এসবিআই ফাউন্ডেশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর স্বপন ধর।

জানা গেছে, পৃথিবীর ৩২% ম্যানগ্রোভ আছে ভারতে আর ৬৮% ম্যানগ্রোভ আছে বাংলাদেশে। সেই ৩২% ম্যানগ্রোভ আছে সুন্দরবনে। আর সুন্দরবনকে বাঁচানোর মূল কারিগর হল এই ম্যানগ্রোভ। সুন্দরবনে মোট ৮৪ ধরনের গাছ রয়েছে।প্রাকৃতিক দুর্যোগে একের পর এক সুন্দরবনে ম্যানগ্রোভ ধ্বংস হচ্ছে।আয়লা,ফণি, বুলবুল,আমফানের মতন প্রাকৃতিক দূর্যোগ বয়ে গেছে এই সুন্দরবনের উপর দিয়ে।তাই ম্যানগ্রোভকে ঠিকমত না বাঁচালে সুন্দরবন বিপন্ন হবে। আগামী দিনে কলকাতাও ধ্বংস হতে পারে। এই ম্যানগ্রোভ রক্ষায় দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে রোপণ, পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে চলেছে রায়দিঘির সবুজ সংঘ।

এদিনের অনুষ্ঠানে এছাড়া উপস্থিত ছিলেন এসবিআইয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার সুব্রত হাজরা, বিভাগীয় প্রধান রিতেশ সাইন, সবুজ সংঘের ডাইরেক্টর অংশুমান দাস,মথুরাপুর দু নং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি জয়ভূষণ ভাণ্ডারী ও নন্দকুমার গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মুজিবর রহমান সহ আরো অনেকে।এদিন সবুজ সংঘের ডাইরেক্টর অংশুমান দাস বলেন, সুন্দরবনের সাগর, নামখানা, পাথরপ্রতিমা ও মথুরাপুর ২ নং ব্লকে মোট সাড়ে সাত লক্ষ ম্যানগ্রোভের চারা রোপনের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে দু লক্ষ চারা রোপন করা হয়ে গেছে।আমাদের এই গবেষণা কেন্দ্র থেকে গবেষকরা সুন্দরবনের অনেক কিছু তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে।যা সুন্দরবনকে বাঁচানোর ক্ষেত্রে আগামী দিনে অগ্রনী ভূমিকা নেবে বলে আশা করা যাচ্ছে।এদিনের অনুষ্ঠানে মহিলাদের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতন।



