মৈনপুরী, উত্তরপ্রদেশ: সকালবেলা সূর্যের প্রথম আলো ছুঁয়ে গেলে, রঞ্জন মেহতা এবং তার সহযাত্রীরা স্কেট নিয়ে বের হন, চোখে অদম্য উদ্যম, হৃদয়ে সনাতন ধর্মের প্রতি গভীর ভালোবাসা। প্রতিটি পা ফেলায় যেন তারা শুধু পথ অতিক্রম করছেন না, বরং ধর্মের মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিচ্ছেন। আজ তাদের যাত্রার ১৪তম দিন, এবং তারা প্রায় ২,৫০০ কিমি পথ অতিক্রম করে বৈষ্ণো দেবী মন্দিরের উদ্দেশ্যে এগিয়ে চলেছেন।
রঞ্জন মেহতা জানিয়েছেন, “আমরা সম্প্রতি আমাদের ১০ম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষা শেষ করেছি। তারপর এই বিশেষ উদ্যোগ হাতে নিয়েছি, যাতে সনাতন ধর্মের সঠিক বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে। অনেক সময় বিভিন্ন মানুষ ক্ষতিকর ভিডিও তৈরি করে ধর্মকে নিন্দা করার চেষ্টা করে। আমাদের লক্ষ্য, স্কেটিং-এর মাধ্যমে এই বার্তা পৌঁছে দিয়ে অন্যান্য শিশুদেরও অনুপ্রাণিত করা।”
এই যাত্রা প্রায় ৪–৫ মাসের পরিকল্পনার ফল। রঞ্জন বলেন, “আমাদের পিতামাতা প্রথমে এই যাত্রা শুরু না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলাম। শেষমেশ যখন তারা সম্মতি দিলেন, তখনই আমরা যাত্রা শুরু করি। দৈনিক প্রায় ৭০–৮০ কিমি পথ অতিক্রম করি। যদিও যাত্রাপথে বড় কোনো অসুবিধার মুখোমুখি হই না, তবে নিরাপদ বিশ্রামের স্থান খুঁজে পাওয়া মাঝে মাঝে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।”
এই স্কেটিং ধর্মযাত্রা কেবল পথচলা নয়; এটি শিশুদের মধ্যে সচেতনতা, ধৈর্য এবং শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির এক অনন্য উদাহরণ। রঞ্জন এবং তার সহযাত্রীরা স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছেন, এবং অনেকে তাদের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করছেন।
রঞ্জন মেহতার এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, সঠিক পরিকল্পনা, ধৈর্য এবং উদ্যম থাকলে বড় লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। এদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ধর্মীয় বার্তা পৌঁছে দেওয়া নয়, বরং তরুণদের মধ্যে প্রেরণা সৃষ্টি করা, যাতে তারা সমাজ ও ধর্মের সঠিক মূল্যবোধ বোঝার দিকে এগিয়ে আসে।



