পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাতের প্রেক্ষিতে লোকসভায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ভারত সরকার নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ৩ লক্ষ ৭৫ হাজারেরও বেশি ভারতীয় নাগরিককে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিশেষ করে ইরান থেকে প্রায় ১,০০০ ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে ৭০০-রও বেশি মেডিক্যাল ছাত্র রয়েছে। তাঁদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এই পরিস্থিতিতে বিদেশে থাকা ভারতীয় পড়ুয়াদের কথাও মাথায় রেখেছে কেন্দ্র। গাল্ফ দেশগুলিতে সিবিএসই-র দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে, যাতে যুদ্ধের কারণে পড়াশোনায় কোনও ব্যাঘাত না ঘটে। পাশাপাশি, বিকল্প পদ্ধতিতে মূল্যায়নের ব্যবস্থা করার কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মোদী। তিনি বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজের উপর হামলা এবং হরমুজ় প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথে বিঘ্ন সৃষ্টি “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য”। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক স্তরে সক্রিয় রয়েছে কেন্দ্র সরকার।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হরমুজ় প্রণালীর গুরুত্ব অপরিসীম। এই পথ দিয়েই বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, গ্যাস এবং সার দেশে আসে। যুদ্ধের কারণে এই রুটে জাহাজ চলাচল কঠিন হয়ে পড়লেও, দেশে পেট্রল, ডিজেল ও গ্যাসের সরবরাহ যাতে স্বাভাবিক থাকে, সে জন্য সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ এলপিজি আমদানি হরমুজ় প্রণালীর উপর নির্ভরশীল। তাই সরবরাহে অনিশ্চয়তার মধ্যে গৃহস্থালি এলপিজি গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মাঝেও ভারত সরকার নাগরিকদের সুরক্ষা, শিক্ষার ধারাবাহিকতা এবং জ্বালানির জোগান বজায় রাখতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে লোকসভায় বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী।



