পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র নির্বাচনী প্রচারসূচি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, এই নির্বাচনে তাঁর শেষ রোড শো কলকাতার Bhowanipore বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে আয়োজন করা হতে পারে।
রাজ্যে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ নির্ধারিত হয়েছে ২৩ এপ্রিল। তবে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের ১৪২টি আসনে ভোট হবে দ্বিতীয় দফায়, অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল। সেই কারণেই ২৪ থেকে ২৭ এপ্রিলের মধ্যে কলকাতায় নির্বাচনী প্রচার তুঙ্গে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই সময়েই প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই গুরুত্বপূর্ণ রোড শো অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
যদিও রোড শোয়ের নির্দিষ্ট রুট এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে বিজেপি সূত্রে স্পষ্ট ইঙ্গিত—এই কর্মসূচি ভবানীপুর কেন্দ্রকে অবশ্যই ছুঁয়ে যাবে। এমনকি রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রোড শোটি ভবানীপুর থেকেই শুরু হতে পারে বা সেখানেই শেষ হতে পারে। তবে পুরো রুট নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা, স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ (SPG)-এর অনুমোদন এবং প্রধানমন্ত্রীর দফতরের ছাড়পত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
ভবানীপুর কেন্দ্রটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি একদিকে যেমন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-র শক্ত ঘাঁটি, তেমনই এ বারের নির্বাচনে বিরোধী দলনেতা Suvendu Adhikari-র সম্ভাব্য লড়াইয়ের কেন্দ্র হিসেবেও উঠে এসেছে। ফলে এই কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ইতিমধ্যেই তুঙ্গে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা বনাম শুভেন্দুর লড়াই রাজ্যের রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল। এ বার ২০২৬-এ সেই লড়াই ভবানীপুরে পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। অলিগলিতে ঘুরে জনসংযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি তিনি প্রশাসনকেও সতর্ক করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসও বসে নেই। পাল্টা প্রচার, স্লোগান এবং কর্মিসভা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মাঠে নেমে পড়েছেন এবং শীঘ্রই রাস্তায় নেমে প্রচারে অংশ নেবেন বলে দলীয় সূত্রে খবর।
এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র সম্ভাব্য রোড শো ভবানীপুরকে ঘিরে নির্বাচনী লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, এই রোড শো শুধু একটি প্রচার কর্মসূচি নয়, বরং ভবানীপুরকে কেন্দ্র করে একটি উচ্চমাত্রার রাজনৈতিক বার্তা দিতেও পারে।
ফলে সব মিলিয়ে বলা যায়, মমতা বনাম শুভেন্দুর লড়াইয়ের ময়দানে এবার সরাসরি না হলেও প্রভাব বিস্তার করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। আর তার জেরেই ভবানীপুর কেন্দ্র আগামী দিনে রাজ্যের সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক কেন্দ্র হয়ে উঠতে চলেছে।



