সৌভিক দত্ত, জলপাইগুড়ি : তৃণমূলের যুব কর্মী নিখিলেশ রায় বলছিলেন ময়নাগুড়িতে অনেক দিন পর দলে অক্সিজেন ফিরে পেয়েছি। ময়নাগুড়িতে একজন ভাল তৃণমূল নেতা, যাকে দেখে উজ্জীবিত হবেন কর্মীরা। এরকম নেতার অভাব ছিল। যার কথা বলা হচ্ছে, তিনি রামমোহন রায়। এবারের ময়নাগুড়ির তৃণমূল প্রার্থী। জল্পেশ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। রামমোহনের পেশা ছিল গ্রামীণ পুলিশ। গ্রামের আইন শৃঙ্খলাটা ভালো বুঝতেন। কিছুদিনের মধ্যেই পুলিশ মহলে বেশ শুনাম অর্জন করেছিলেন গ্রামীণ পুলিশ হিসেবে। এরপর অনেক বিতর্কও হয়েছে তাকে নিয়ে। ময়নাগুড়ি থানার অলিখিত আইসি বলা হতো তাকে একসময়। সব এখন অতীত। রামমোহন এখন রাজনীতিতে। ব্যক্তি হিসেবে রামমোহন রায় দাগ কেটেছেন ময়নাগুড়িবাসীর মনে। বিরোধী শিবির বিজেপি অনেক অভিযোগ করেছে। কিন্তু প্রকাশ্যে না বললেও দলীয় সূত্রের খবর, রামকে নিয়ে বেশ চাপে পড়েছে বিজেপি। ময়নাগুড়িতে জয়ী আসন বিজেপির। কিন্তু গত ৫ বছরে এখানকার বিধায়ক কৌশিক রায়কে নিয়ে ভুড়ি ভুড়ি অভিযোগ। তাকে নাকি ৫ বছরে ৫ বারও অনেকে দেখেননি এলাকায়।
ময়নাগুড়ির প্রার্থী রামমোহন তৃণমূলে প্রবেশ করেন যুব সভাপতি পদ নিয়ে। কিছুদিনের মধ্যেই যুব মুখে জেলার আইকন হয়ে উঠেন তিনি। ছাত্র রাজনীতি করলেও। পরবর্তীতে গ্রামীণ পুলিশের পেশায় নিযুক্ত হয়ে রাজনীতি করা হয়নি। প্রশাসনিক কাজে থেকে মানুষের সেবায় সবসময় থাকা সম্ভব নয়। তাই গ্রামীণ পুলিশের পেশা ছেড়ে রাজনীতিতে প্রবেশ। রামমোহনের কথায়, তৃণমূলই একটি দল যেখানে থেকে মানুষের সেবা করা যায়। মানুষের পাশে থাকা যায়। উন্নয়ন করা যায়। তাই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন তিনি। এদিকে কালীঘাট থেকে মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছেন সেই তালিকায় ময়নাগুড়ি থেকে রামমোহন রায়ের নাম ঘোষণা হতেই রীতিমতো উল্লাস উদযাপন হয়েছে গোটা ময়নাগুড়ি জুড়ে।
জল্পেশ মন্দিরে পূজো দিয়ে প্রচার শুরু করেছেন জেলার যুব সভাপতি রামমোহন রায়। আর এই রামমোহনের জনপ্রিয়তা ময়নাগুড়িতে বহুদিন থেকেই। সাধারণ মানুষ থেকে বিশেষ করে যুবক যুবতীদের কাছে অন্যতম মুখ রামমোহন। বহু তৃণমূল কর্মী সমর্থক যুবক-যুবতীরা মাঝে দল থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখলেও রামমোহন রায়ের নাম প্রার্থী তালিকায় ঘোষণা হতেই ফের তারা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েছেন। নতুনভাবে দলে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে তাদের। তৃণমূলের মহিলা সমর্থক জোৎস্না রায় বলেন, রামমোহনদা সবাইকে নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসেন। সবার পাশে থাকেন। সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে ভালোবাসেন। যার ফলেই মনের মধ্যে আলাদা দাগ কেটেছেন উনি। আমরা চাই রামমোহনদা ময়নাগুড়ি থেকে জয়ী হয়ে বিধানসভায় মন্ত্রিত্ব উপহার দিক উত্তরবঙ্গবাসীকে। যার কারণে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় রামমোহন রায়ের নাম ঘোষণা হতেই বেশ চাপে পড়েছে গেরুয়া শিবির।
প্রকাশ্যে কোনও নেতা মুখ খুলতে না চাইলেও দলীয় সূত্রের খবর, ময়নাগুড়িতে সক্রিয়তার অভাবে কিছু মুখকে দল থেকে ছেঁটে ফেলে দিতে চাইছে বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব। নতুন মুখ খুঁজতে রীতিমতো নাজেহাল গেরুয়া শিবিরের। সব জল্পনার অবসনা ঘটিয়ে ফের কৌশিক রায়ের উপরই দল ভরসা করেছে। রামমোহনের জনপ্রিয়তা এবং বিজেপির বিদায়ী বিধান কৌশিক রায়ের সক্রিয়তার অভাব দেরির প্রচারে অনেকটাই বেগ পাবে বিজেপি বলে দাবি। তবে এইসব সবকিছুই মানতে নারাজ গেরুয়া শিবির। বিজেপির জেলা সভাপতি শ্যামল চন্দ্র রায় বলেন, মানুষ নরেন্দ্র মোদিজিকে এবং পদ্মফুল দেখে ভোট দেবেন। ময়নাগুড়িতে কলা গাছ দাঁড় করালেও বিজেপি জয়ী হবে। এটা আমাদের জেতা আসন। কৌশিক রায় আবার জয়ী হবেন বলে তার দাবি।
এদিকে, রামমোহন রায় সহ তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব ময়নাগুড়ির আসন নিয়ে এবছর সবথেকে বেশি আত্মবিশ্বাসী। শুধুমাত্র রামমোহন রায়ের চিন্তার কারণ দলের কিছু নেতা রামমোহন রায়কে চটজলতি উপরে উঠতে দেখে। অভিমানে নিজেদেরকে নিস্তব্ধ রেখেছেন। এই নিস্তব্ধতা যদি রামমোহন রায় কাটাতে পারেন তাহলেই হয়তো কালো মেঘ সরিয়ে নীল আকাশ দেখবে ময়নাগুড়িতে তৃণমূল। জেলা সভাপতি মহুয়া গোপ বলেন, ময়নাগুড়ি নিয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী এবং গোটা জলপাইগুড়ি জেলার সমস্ত বিধানসভা আসন আমরা মমতা ব্যানার্জিকে উপহার দিতে চলেছি শুধু সময়ের অপেক্ষা। তবে সব কিছু অবসান ঘটবে শুধু সময়ের অপেক্ষা। নির্বাচন এবং নির্বাচনের ফলাফলের দিন বলে দেবে ময়নাগুড়ির মানুষের দায়িত্বে কে বসবে।

