কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। লিফট বিভ্রাটে প্রাণ হারালেন বছর ৪০-এর এক ব্যক্তি। মৃতের নাম অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়, বাড়ি দমদমে। এই ঘটনায় হাসপাতালের পরিকাঠামো ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে নিজের চার বছরের ছেলেকে চিকিৎসা করাতে হাসপাতালে এসেছিলেন অরূপ। ছেলের ফ্র্যাকচারের চিকিৎসার জন্য ট্রমা কেয়ার বিল্ডিংয়ের পাঁচতলায় যাওয়ার কথা ছিল তাঁদের। স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে লিফটে ওঠেন তিনি। অভিযোগ, লিফটটি ঠিকভাবে কাজ না করে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।
পরিবারের অভিযোগ, লিফটটি উপরে ওঠার বদলে আচমকা নীচে নেমে যায় এবং জোরে ধাক্কা খায়। এরপর লিফটের দরজা আটকে যায় এবং ভিতরে আটকে পড়েন অরূপ, তাঁর স্ত্রী ও সন্তান। দীর্ঘ সময় উদ্ধার না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
হাসপাতাল সূত্রে দাবি, স্ত্রী ও সন্তানকে নিরাপদে বের করা গেলেও অরূপকে উদ্ধার করার সময় ফের লিফটে ত্রুটি দেখা দেয়। সেই সময় গুরুতরভাবে আহত হন তিনি। দ্রুত চিকিৎসা শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি।
প্রাথমিক ময়নাতদন্তে জানা গিয়েছে, একাধিক গুরুতর আঘাতের জেরেই মৃত্যু হয়েছে অরূপের। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে মারাত্মক চোটের কথা উঠে এসেছে রিপোর্টে। যদিও ঠিক কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই টালা থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। লিফটের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মী-সহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে।
ঘটনার পর হাসপাতালে যান কলকাতা পুলিশের আধিকারিকরা। তৃণমূল বিধায়ক অতীন ঘোষও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ঘটনায় দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের জবাবদিহি করতে হবে এবং এটি নজরদারির ঘাটতির ফল।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হাসপাতাল চত্বরে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য দ্রুত পদক্ষেপের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
