আমলাদের রদবদল ‘রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ’, কমিশন-বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

ভোট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে প্রশাসনিক স্তরে একের পর এক বদলিকে কেন্দ্র করে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে তিনি সরাসরি “রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ” বলে অভিযোগ করেছেন। একইসঙ্গে বিজেপির দিকেও আঙুল তুলেছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিকদের হঠাৎ সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজিপি থেকে শুরু করে এডিজি, আইজি, ডিআইজি, জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার—সব মিলিয়ে ৫০-এরও বেশি অফিসারকে বদলি করা হয়েছে বলে দাবি তাঁর।

সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের বক্তব্যে তিনি বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ প্রশাসনিক নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর অভিযোগ, একটি নিরপেক্ষ সংস্থা হিসেবে কাজ করার বদলে নির্বাচন কমিশন বাংলাকে আলাদা করে টার্গেট করছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও দাবি করেন, এই সিদ্ধান্তগুলি রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকে দুর্বল করে দিচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের অফিসারদের সরিয়ে দেওয়া এবং বাইরে পাঠানোর ফলে প্রশাসনিক কাজে ব্যাঘাত ঘটছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা সম্পূর্ণ প্রকাশ না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা ও তদন্তকারী সংস্থার কিছু আধিকারিককে বেছে বেছে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টিকেও প্রশ্নের মুখে তুলেছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, কমিশনের পদক্ষেপে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। একদিকে কিছু আধিকারিককে দায়িত্ব থেকে সরানো হচ্ছে, আবার অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁদের অন্য নির্বাচনী দায়িত্বে পাঠানো হচ্ছে—যা প্রশাসনিক বিভ্রান্তির ইঙ্গিত দেয় বলে দাবি তাঁর।

তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য উদ্বেগজনক এবং রাজ্যের মানুষের উপর অযথা চাপ সৃষ্টি করছে। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পেতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির অপব্যবহার করা হচ্ছে।

তবে নির্বাচন কমিশন বা বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।

সব মিলিয়ে, ভোটের আগে প্রশাসনিক রদবদলকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ আরও চড়ল। এই ইস্যু আগামী দিনে নির্বাচনী প্রচারের একটি বড় বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *