আইপ্যাক তল্লাশি মামলায় সুপ্রিম কোর্টে ফের সময় চাইল রাজ্য, তদন্ত হস্তক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন বিচারপতির

নিজস্ব : আইপ্যাক সংক্রান্ত তদন্তকে ঘিরে আইনি লড়াইয়ে আবারও সময় চাইল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চে শুনানির সময় রাজ্যের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সময়ের আবেদন করা হয়। রাজ্যের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল।
এদিন আদালতে কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা দাবি করেন, রাজ্য ইচ্ছাকৃতভাবে সময় নষ্ট করছে। তাঁর বক্তব্য, একটি গুরুতর অভিযোগের মামলায় বারবার সময় চাওয়ার কোনও যুক্তি নেই। বিচারপতিরাও উল্লেখ করেন, ইতিমধ্যেই রাজ্যকে চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছিল।
কপিল সিব্বল আদালতে জানান, রাজ্যের পক্ষ থেকে একটি রিজয়েন্ডার জমা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, সেই কারণেই কিছু অতিরিক্ত সময় চাওয়া হচ্ছে। তবে সলিসিটর জেনারেল পাল্টা যুক্তি দেন, একজন মুখ্যমন্ত্রী যদি তদন্ত চলাকালীন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন, তা অত্যন্ত অস্বাভাবিক ঘটনা। চার সপ্তাহ সময় পাওয়ার পরেও আবার সময় চাওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।
ইডির তরফে এদিন অভিযোগে জানানো হয়, তল্লাশির সময় রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় অভিযান স্থগিত করতে বাধ্য হন তদন্তকারীরা। কোনও তদন্তকারী সংস্থা তল্লাশির সময় কোনও তৃতীয় ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতে বা নথি নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয় না। অথচ সেই নিয়ম ভঙ্গ করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
অন্যদিকে রাজ্যের রাজ্যের পক্ষ থেকে আইনজীবী শ্যাম দেওয়ান আদালতে প্রশ্ন তোলেন, ইডি আদৌ কি সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে মামলা করতে পারে? তাঁর যুক্তি অনুযায়ী— ১. ইডি কোনও স্বতন্ত্র জুরিস্টিক সত্তা নয়। ২. তাই মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দায়ের করার অধিকার তাদের নেই। ৩. সংবিধানের কাঠামো অনুযায়ী এমন মামলা সাধারণত ব্যক্তি, নাগরিক বা স্বীকৃত কর্পোরেট সত্তা করতে পারে রাজ্যের দাবি, যদি কোনও অভিযোগ থাকে তাহলে কেন্দ্রীয় সরকার নিজেই মামলা করতে পারে, কিন্তু কোনও দপ্তর বা তদন্তকারী সংস্থা সরাসরি সেই ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারে না।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের শুরুতে কলকাতায় ভোটকৌশল সংস্থা আইপ্যাক-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সল্টলেকের অফিসে তল্লাশি চালায় ইডি। কয়লা দুর্নীতি মামলার তদন্তের সূত্রেই এই অভিযান হয়েছিল বলে জানায় সংস্থাটি। ইডির অভিযোগ, সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য পুলিশের কিছু আধিকারিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্তে বাধা দেন এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। অন্যদিকে রাজ্যের দাবি, নির্বাচনের আগে সংবেদনশীল রাজনৈতিক তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই ওই তল্লাশি চালানো হয়েছিল।
এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী সপ্তাহে হওয়ার কথা। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট অন্তর্বর্তী নির্দেশে ৮ জানুয়ারির ঘটনার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক প্রমাণ সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য সরকারকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *