অন্তঃস্থলীয় মৎস্য গবেষণা সংস্থায় গবেষণা ও উদ্ভাবনের আট দশক পালন

উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, ব্যারাকপুর : আই. সি. এ. আর কেন্দ্রীয় অন্তর্মূলীয় মৎস্য গবেষণা সংস্থা (সিফরি) মঙ্গলবার ব্যারাকপুরে তার ৮০তম প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন করলো। ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আই.সি.এ.আর- সি.আই.এফ.আর. আই বা সিফরি অন্তঃস্থলীয় উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য সম্পদের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বছরের পর বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও উদ্যোগ প্রবর্তন করেছে, যেমন প্রণোদিত প্রজনন, সমন্বিত মাছ চাষ , জলাধার ও জলাভূমির জন্য মৎস্য ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা, হিলসা ও অন্যান্য নদীজাত মাছের সংরক্ষণ উদ্যোগ, এনক্লোজার কালচার, মেগা নদী র‍্যাঞ্চিং কর্মসূচি, বিভিন্ন পণ্যের উন্নয়ন ও বাণিজ্যিকীকরণ এবং পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তির প্রসার।২০২৫ সালে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাছ উৎপাদনকারী দেশ, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় ৮% অবদান রাখে। এর মধ্যে অন্তঃস্থলীয় মৎস্য খাতই মোট উৎপাদনের ৭৫%-এর বেশি সরবরাহ করে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সিফরি দেশের খাদ্য ও প্রোটিন নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।এদিন অনুষ্ঠানের সূচনা হয় কেক কেটে। স্বাগত ভাষণে আই. সি.এ.আর সিফরির নির্দেশক প্রদীপ দে গত ৭৯ বছরে প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য সাফল্য ও অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি অন্তঃস্থলীয় উন্মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন,জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, অংশীদারদের ক্ষমতায়ন এবং ড্রোন ও সেন্সরভিত্তিক প্রযুক্তির মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।তিনি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের গুরুত্ব তুলে ধরে জানান যে আই সি এ আর সিফরি ক্ষুধা শূন্য,পুষ্টি নিরাপত্তা এবং লিঙ্গ সমতার মতো জাতীয় লক্ষ্য পূরণে কাজ করছে।এদিন প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রবীর কুমার ঘোষ ৮০তম প্রতিষ্ঠা দিবসে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মীদের অভিনন্দন জানান এবং প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দেশের মৎস্য খাত গঠনে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিজ্ঞানের অগ্রগতি জাতির সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।বিধান চন্দ্র কৃষি বিশ্ব বিদ্যালয়ের উপাচার্য অশোক কুমার পাত্র প্রণোদিত প্রজনন ও সমন্বিত মাছ চাষের মতো বিপ্লবী প্রযুক্তিরকথা উল্লেখ করে বলেন, এসব প্রযুক্তি দেশের মৎস্য খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।এদিনের এই অনুষ্ঠানে কলকাতার বিভিন্ন আই সি এ আর প্রতিষ্ঠানের নির্দেশক, আই.সি.এ.আর-সিফরি-এর কর্মী ও গবেষক, মৎস্যচাষী এবং মৎস্য খাতের উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন, যা প্রতিষ্ঠানের উৎকর্ষতার যাত্রায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়।এদিন এই উপলক্ষে একটি বিজ্ঞানী-মৎস্যজীবী আন্তঃক্রিয়া সভার আয়োজন করা হয়েছিল, যা জাতিসংঘের ঘোষিত ২০২৬ সালকে মহিলা কৃষক বর্ষ উদযাপনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে অনুষ্ঠিত হয়। বৈশ্বিক কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থায় উৎপাদন থেকে বাণিজ্য পর্যন্ত নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি জলাভূমি-চামতা, কুন্দিপুর, সিন্দ্রানি,আকাইউর ও খালসি থেকে ৫০ জন মহিলা মৎস্যজীবী এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।এই দিনে একটি পরিবেশ বান্ধব জল উন্মোচন করা হয়, যা ভোজ্য উদ্ভিদ নির্যাস থেকে তৈরি এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লাল রক্ত বিশিষ্ট আগাছা মাছ নির্মূল করতে সক্ষম।এই পণ্যটি সাদারক্তবিশিষ্ট জলজ প্রাণীদের ক্ষতি করে না এবং পুকুর প্রস্তুতি, চিংড়ি চাষ ও জীবন্ত মাছ আহরণের সময় ব্যবহার করা যেতে পারে।এদিনের অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের তাদের অসাধারণ সাফল্যের জন্য সম্মানিত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *