ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার পথে আরও এক বড় সাফল্য এল। নাগপুরভিত্তিক সোলার ইন্ডাস্ট্রিজ প্রথমবারের মতো বেসরকারি সংস্থা হিসেবে পিনাকা এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ (ER) রকেটের উৎপাদিত সংস্করণের সফল প্রমাণ পরীক্ষা (প্রুফ ট্রায়াল) সম্পন্ন করেছে।
১৮ মার্চ রাজস্থানের পোখরান ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা চালানো হয়। প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গেছে, মোট ২৪টি উন্নতমানের রকেট নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিক্ষেপ করা হয় এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই উচ্চমাত্রার নির্ভুলতা ও কার্যকারিতা দেখা যায়। এই সফলতা রকেটগুলির নির্ভরযোগ্যতা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্যতা নিশ্চিত করেছে।
এই ট্রায়ালের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল সম্পূর্ণ উৎপাদন ব্যাচের গুণমান যাচাই করা। জানা যাচ্ছে, দুটি পূর্ণাঙ্গ প্রোডাকশন লট এই পরীক্ষার মাধ্যমে ভ্যালিডেট করা হয়েছে। এর ফলে ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য বৃহৎ পরিসরে সরবরাহের পথ আরও সুগম হল। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই প্রকল্পের আর্থিক মূল্য প্রায় ৬,০৮৪ কোটি টাকা, যা দেশের প্রতিরক্ষা খাতে একটি বড় বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
পিনাকা রকেট সিস্টেম ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাল্টি-ব্যারেল রকেট লঞ্চার (MBRL) ব্যবস্থা। এর এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ সংস্করণ আগের তুলনায় অনেক বেশি দূরত্বে লক্ষ্যভেদ করতে সক্ষম, যা সীমান্ত এলাকায় কৌশলগত দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাফল্যের ফলে সীমান্তে পিনাকা রেজিমেন্টের সংখ্যা ও সক্ষমতা বাড়ানো সহজ হবে।
এছাড়াও, এই প্রকল্প ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করছে। ইতিমধ্যেই আর্মেনিয়ায় পিনাকা সিস্টেম রপ্তানির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারেও ভারতের প্রতিরক্ষা পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। ফলে এই সফল পরীক্ষা ভবিষ্যতে আরও রপ্তানির সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে স্বনির্ভর হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই দিক থেকে বেসরকারি সংস্থার এই সাফল্য শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং কৌশলগত দিক থেকেও ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বকে আরও বাড়াবে এবং দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
