নন্দীগ্রাম কেন্দ্রকে ঘিরে ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ল। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার ঠিক আগে মঙ্গলবার সকালে একের পর এক চমক দেখা গেল তৃণমূল কংগ্রেসের শিবিরে। এবার দলের ঝুলিতে নতুন সংযোজন হিসেবে নাম উঠল পবিত্র করের। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগ দেন।
দলের পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যমে এই যোগদানের কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি শেয়ার করা হয়েছে যোগদানের মুহূর্তের ছবিও। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে, বিশেষ করে নন্দীগ্রামের প্রেক্ষাপটে।
পবিত্র কর নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বয়াল-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার পরিচিত মুখ। স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকার ফলে এলাকায় তাঁর একটি নিজস্ব প্রভাব রয়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধান—দুই দায়িত্বই একাধিকবার সামলেছেন তিনি। ফলে সংগঠন পরিচালনা এবং ভোটের অঙ্ক কষায় তাঁর অভিজ্ঞতা কম নয়।
রাজনৈতিক যাত্রাপথে পবিত্র করের উত্থান-পতনও কম নয়। শুরুতে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। প্রায় দুই দশক আগে, ২০০০ সালের নভেম্বর মাসে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের হাত ধরে তাঁর সেই যোগদান ঘটে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিজেপির সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, নন্দীগ্রামের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের আগেই পবিত্র কর দলবদল করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টানোর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর অবস্থানও বদলাতে শুরু করে। অবশেষে আবার পুরনো দলে ফেরা—এই ঘটনাকে অনেকেই ‘রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন’ হিসেবেই দেখছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে পবিত্র করের এই যোগদানকে তৃণমূলের কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, নন্দীগ্রামে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড় করানোর ভাবনা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হয়নি, তবে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা—পবিত্র করকে নন্দীগ্রাম থেকেই প্রার্থী করা হতে পারে। যদি তা সত্যি হয়, তাহলে নন্দীগ্রামের মাটিতে একটি হাই-ভোল্টেজ লড়াই দেখা যেতে পারে।
মঙ্গলবার দুপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে। সেই তালিকায় পবিত্র করের নাম থাকে কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের। তবে আপাতত তাঁর দলে ফেরা নিয়েই চর্চা তুঙ্গে।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক ছবি ক্রমশই জটিল হচ্ছে। নতুন সমীকরণ, পুরনো দ্বন্দ্ব এবং সম্ভাব্য মুখোমুখি লড়াই—সবকিছু মিলিয়ে এই কেন্দ্র আবারও রাজ্যের অন্যতম ‘হটস্পট’ হয়ে উঠতে চলেছে।
