মোবাইল রিচার্জ শেষ হলেই বন্ধ হয়ে যায় ইনকামিং কল ও এসএমএস—এই সমস্যাকে সামনে এনে রাজ্যসভায় টেলিকম সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে সরব হলেন আম আদমি পার্টির সাংসদ রাঘব চাড্ডা। তিনি দাবি করেন, দেশের প্রায় ১.২৫ বিলিয়ন প্রিপেইড ব্যবহারকারী, অর্থাৎ মোট বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশ গ্রাহক, এই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
রাজ্যসভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে চাড্ডা বলেন, রিচার্জের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেই অনেক সময় গ্রাহকরা ইনকামিং কল ও এসএমএস পান না। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা—যেমন ব্যাঙ্কের OTP, হাসপাতালের বার্তা বা অন্যান্য জরুরি নোটিফিকেশন—পাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।
২৮ দিনের রিচার্জ নিয়ে প্রশ্ন
টেলিকম সংস্থাগুলির তথাকথিত ‘মাসিক’ রিচার্জ প্ল্যান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাঘব চাড্ডা। তাঁর অভিযোগ, বেশিরভাগ প্ল্যানই ৩০ দিনের পরিবর্তে ২৮ দিনের জন্য বৈধ থাকে। ফলে বছরে ১২ বার নয়, ১৩ বার রিচার্জ করতে হয়, যা গ্রাহকদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করে।
কী দাবি তুললেন চাড্ডা
রাজ্যসভায় তিনি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানান—
- রিচার্জ শেষ হলেও কমপক্ষে এক বছর ইনকামিং কলের সুবিধা চালু রাখা
- মাসিক প্ল্যানকে ক্যালেন্ডার মাস অনুযায়ী (৩০ বা ৩১ দিন) বৈধ করা
- শুধুমাত্র ইনকামিং কলের জন্য কম দামের বিশেষ প্ল্যান চালু করা
TRAI-এর নিয়মেও সমস্যা
বর্তমানে টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা TRAI-এর নিয়ম অনুযায়ী, রিচার্জ না থাকলেও ৯০ দিন পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হয়। তবে চাড্ডার দাবি, বাস্তবে এই নিয়ম অনেক সময় গ্রাহকদের প্রয়োজন মেটাতে পারে না।
তিনি বলেন, মোবাইল পরিষেবা এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং একটি মৌলিক প্রয়োজন। তাই সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থে টেলিকম সংস্থাগুলির এই নীতির পরিবর্তন জরুরি।
রাজনৈতিক মহল ও গ্রাহক সংগঠনগুলির মতে, দীর্ঘদিন ধরেই ২৮ দিনের রিচার্জ ও ইনকামিং কল বন্ধ হওয়া নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। সংসদে এই বিষয়টি ওঠায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
